তিরুপতির লাড্ডু ঘিরে দেশজুড়ে যে তীব্র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, ১৬ মাস পরে তার মোড় ঘুরে গেল তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টে। সিবিআইয়ের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) জানিয়েছে, লাড্ডু তৈরিতে ব্যবহৃত ঘিয়ের মধ্যে গরু বা শূকরের চর্বি মেশানোর অভিযোগ ঠিক নয়। তবে এতে বড়সড় জালিয়াতি ও ভেজাল তৈরির প্রমাণ মিলেছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত সিট ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি নেল্লোরের বিশেষ আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। তদন্তে উঠে এসেছে, লাড্ডুর ঘি আদতে দুধ থেকে তৈরি ছিল না। বরং বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ তেল ও রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে এক ধরনের কৃত্রিম ঘি তৈরি করা হতো, যা পরীক্ষায় খাঁটি ঘির মতো দেখাত।
তদন্তে মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে উত্তরাখণ্ডের ভগবানপুরে অবস্থিত ভোলে বাবা অর্গানিক ডেয়ারির নাম। সিট জানিয়েছে, এই সংস্থা বাস্তবে কোনও দুধ বা মাখন ব্যবহার না করেও ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ৬৮ লক্ষ কেজি ঘি সরবরাহ করেছে তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানমে। এর আর্থিক মূল্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। ওই তথাকথিত ঘি আসলে পাম তেল, পামোলিন ও পাম কার্নেল অয়েলের সঙ্গে বিশেষ রাসায়নিক মিশিয়ে বানানো হতো।
ঘির মান যাচাইয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষ যে পরীক্ষার উপর নির্ভর করত, তা এড়াতেই এই কৌশল নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে সিট। ঘির রং ও গন্ধ নকল করতে বিটা ক্যারোটিন ও কৃত্রিম ফ্লেভার ব্যবহার করা হয়। ফলে পরীক্ষায় ধরা পড়েনি ভেজাল।
তদন্তে আরও জানা গেছে, একবার বাতিল হওয়া ঘি ফের নতুনভাবে প্রক্রিয়াকরণ করে আবার মন্দিরে পাঠানো হয়েছিল। এই কাজে মন্দির প্রশাসনের ভেতরের কিছু আধিকারিকের যোগসাজশ ছিল বলেও অভিযোগ। প্রাক্তন একাধিক আধিকারিক ও সরবরাহকারী মিলিয়ে মোট ৩৬ জনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দল ওয়াইএসআর কংগ্রেস দাবি করেছে, পশুর চর্বির অভিযোগ ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যদিকে শাসক তেলুগু দেশম পার্টির বক্তব্য, পশুর চর্বি না থাকলেও এত বড় ভেজাল ও দুর্নীতি নিজেই এক গুরুতর অপরাধ। এই তদন্তে পরিষ্কার উঠে আসছে, লাড্ডুতে পশুর চর্বি মেশানো হয়নি। কিন্তু কোটি কোটি টাকার কৃত্রিম ঘি কেলেঙ্কারি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা তিরুপতির পবিত্র প্রসাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।


