ভারত–বাংলাদেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েন যেন দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে স্পষ্ট অস্বস্তির ছবি উঠে এসেছে। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লিতে বসে বাংলাদেশ সরকার-বিরোধী বক্তব্য ঢাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে, এক বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে আইপিএলের একটি দলে নেওয়ার পর রাজনৈতিক চাপের মুখে সেই চুক্তি বাতিল হওয়ায় ক্রীড়াক্ষেত্রেও ক্ষোভ ছড়িয়েছে। এর জেরে ভারত সফর নিয়েও অনীহা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট মহল।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই একেবারে ভিন্ন ছবি দেখা যাচ্ছে বিদ্যুৎ বাণিজ্যে। কূটনৈতিক সম্পর্ক যখন তলানিতে, তখনও ভারতের শিল্পগোষ্ঠী আদানি বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবসা আরও বাড়িয়েছে। ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত প্রায় সম্পূর্ণ বিদ্যুৎই বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। গত কয়েক মাসে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ রফতানি হয়েছে, যার ফলে ভারতের মোট বিদ্যুৎ রফতানিতে বাংলাদেশের অংশ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন পর্ষদের মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটই এই নির্ভরতার মূল কারণ। প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে, ফলে বাইরে থেকে বিদ্যুৎ কেনা ছাড়া আপাতত অন্য রাস্তা নেই। একই সঙ্গে কয়লা আমদানিও আগের তুলনায় অনেকটা বাড়ানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আদানির বিদ্যুতের দাম তেলভিত্তিক বিদ্যুতের তুলনায় কম হওয়ায় বাংলাদেশ বাধ্য হয়ে সেই দিকেই ঝুঁকছে। তবে গোড্ডা প্রকল্প ঘিরে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আন্দোলনও থেমে নেই। সব মিলিয়ে, কূটনীতি ও রাজনীতিতে দূরত্ব বাড়লেও বিদ্যুৎ বাণিজ্যে ভারত–বাংলাদেশের সম্পর্ক যেন উল্টো পথে হাঁটছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক জটিল ও তাৎপর্যপূর্ণ বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।


