গুজরাতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে স্বচ্ছতা জানতে রাজ্যের নির্বাচন দপ্তরের কাছে তথ্য চেয়েছেন আহমদাবাদের সমাজকর্মী ও আইনজীবী সামসাদ পাঠান। তিনি দাবি করেছেন, ভোটারদের নাম মুছে ফেলতে ব্যবহৃত ৭ নম্বর ফর্ম নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠছে, যা গণতান্ত্রিক অধিকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায় তিনি মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের কাছে লিখিতভাবে জানতে চেয়েছেন, গত তিন মাসে রাজ্যে কতগুলি ৭ নম্বর ফর্ম জমা পড়েছে। পাঠানের অভিযোগ, বেশ কিছু এলাকায় যথাযথ যাচাই ছাড়া শুধুমাত্র আবেদনের ভিত্তিতেই নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত ভোটাররা সমস্যায় পড়ছেন এবং তাদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তিনি জানতে চেয়েছেন, ব্লক লেভেল অফিসার ও নির্বাচন সংক্রান্ত আধিকারিকরা আবেদনগুলির সত্যতা পরীক্ষা করেছেন কিনা এবং এ বিষয়ে কোনও রিপোর্ট তৈরি হয়েছে কিনা।
এই ঘটনার জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, পরিকল্পিতভাবে তাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। জুনাগড়ে এক বিশিষ্ট শিল্পী ও তার পরিবারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয়দের প্রতিবাদে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি।
এছাড়া সুরাতের এক এলাকায় কয়েকশো বাসিন্দা থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন, তাদের মৃত দেখিয়ে তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই বিতর্ক তৈরি হয়। ফর্মের অপব্যবহার রুখতে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নিয়েছে, সেই সংক্রান্ত নথিও চাওয়া হয়েছে। কতগুলি আবেদন খারিজ হয়েছে এবং কতগুলি গৃহীত হয়েছে, তার হিসেব জানতে চেয়েছেন পাঠান। তার কথায়, স্বচ্ছতা ও সঠিক তদন্ত ছাড়া অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।


