দেশজুড়ে সরকারি স্কুলের সংখ্যা ক্রমশ কমছে, আর তার জায়গায় বাড়ছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য ঘিরে এমনই ছবি সামনে এসেছে। গত পাঁচ বছরে প্রায় ১৮,৭০০-এর বেশি সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানানো হয়েছে। একই সময়ে বেসরকারি অনুদানবিহীন স্কুলের সংখ্যা বেড়েছে।
রাজ্যসভার এক প্রশ্নের উত্তরে এই তথ্য প্রকাশ করেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরী। তিনি জানান, সংবিধান অনুযায়ী শিক্ষা বিষয়টি কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ তালিকায় রয়েছে। তাই স্কুল খোলা বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত মূলত রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির হাতে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে দেশে সরকারি স্কুলের সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ লক্ষ ৩২ হাজার। ২০২৪-২৫-এ তা নেমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ ১৩ হাজারে। অর্থাৎ কয়েক বছরের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে স্কুলের সংখ্যা।
অন্যদিকে, বেসরকারি অনুদানবিহীন স্কুলের ক্ষেত্রে ওঠানামা দেখা গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। এক বছরে প্রায় ৮ হাজারের বেশি নতুন বেসরকারি স্কুল যুক্ত হয়েছে। রাজ্যভিত্তিক হিসাবেও বড় ফারাক ধরা পড়েছে। মধ্যপ্রদেশে বেসরকারি স্কুলের সংখ্যা অনেকটা কমেছে।
শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করছেন, সরকারি স্কুল কমে যাওয়ায় গ্রামের গরিব ও প্রান্তিক পরিবারের পড়ুয়ারা সমস্যায় পড়তে পারে। কারণ বেসরকারি স্কুলে পড়ার খরচ বেশি। ফলে অনেক ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
রাজ্যসভার সদস্য জন ব্রিটাস বলেন, সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হলে সাধারণ মানুষের সুযোগ কমে যায়। এই পরিসংখ্যান শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সরকারি পরিকাঠামো মজবুত না হলে সাধারণ মানুষের উপর চাপ বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


