সংঘর্ষ বিরতির ঘোষণা থাকলেও গাজা উপত্যকায় রক্তপাত থামছে না। বুধবার দিনভর ইজরায়েলি হামলায় নতুন করে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৯ জন প্যালেস্তিনীয়। স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে। এদের মধ্যে এক শিশুর বয়স মাত্র পাঁচ মাস এবং আরেকজন ছিল মাত্র ১০ দিনের সদ্যোজাত। বুধবার ভোররাতে উত্তর গাজার একটি আবাসিক এলাকায় হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। জানা গেছে, নিহতদের অধিকাংশই একই পরিবারের সদস্য। পরিবারের একজন স্বজন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “একটি শিশুর কী অপরাধ ছিল? আমরা জানি না এখন কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচব।” ঘটনাস্থলে হৃদয়বিদারক দৃশ্যও দেখা গেছে। এক নিহত ব্যক্তির মরদেহের পাশে বসে ছিল তার ছোট সন্তানরা। বাবার মুখে শেষবারের মতো চুম্বন করার সেই ছবি অনেককেই নাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিন বিকেলেও দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। একটি অস্থায়ী তাঁবুতে চালানো হামলায় ১২ বছরের এক কিশোরসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে নাসের হাসপাতাল। অন্যদিকে, জাইতুন এলাকায় গোলাবর্ষণে আরও তিনজন নিহত হয়েছেন। শিফা হাসপাতাল জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন স্বামী-স্ত্রীও রয়েছেন। এছাড়া মুওয়াসি এলাকায় একটি তাঁবুতে হামলার ঘটনায় দুজন মারা গেছেন এবং অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সেখানে প্যালেস্তিনীয় রেড ক্রিসেন্ট পরিচালিত একটি অস্থায়ী হাসপাতাল রয়েছে। হামলার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় প্যালেস্তিনীয়দের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, রাফা সীমান্ত পার হওয়ার সময় তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ, অপমান এবং ভয় দেখানো হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়বে। গাজার স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, সংঘর্ষ বিরতি কার্যকর হওয়ার পরও কয়েকশো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।


