ওড়িশার বিভিন্ন জেলায় পরপর কয়েকটি ঘটনায় মুসলিম পথবিক্রেতাদের উপর হেনস্থা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাগুলি সামনে আসতেই রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, এক মুসলিম ফেরিওয়ালাকে ঘিরে ধরে কয়েকজন যুবক হেনস্থা করছে। এমনকি তাদের হাতে একটি ধারালো অস্ত্র ছিল, যা দিয়ে ভয় দেখানো হয়। তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল দেওয়া হয় এবং ‘জয় শ্রী রাম’ বলতে চাপ সৃষ্টি করা হয়। জানা গিয়েছে,পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় ওই বিক্রেতা ‘জয় শ্রী রাম’ বলতে বাধ্য হয়।
অন্যদিকে ময়ূরভঞ্জ জেলায় আরও একটি ঘটনায় অভিযোগ, বজরং দলের কয়েকজন সদস্য এক মুসলিম বিক্রেতাকে মারধর করে। তাকে ‘বাংলাদেশি’ বলে কটূক্তি করা হয় এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এমনকি তাকেও জোর করে ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র মুসলিম পরিচয়ের ভিত্তিতেই তাকে নিশানা করা হয়েছে।
এই ধরনের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বারবার সামনে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে। সমালোচকদের মতে, সংখ্যালঘু ও পরিযায়ী ব্যবসায়ীদের উপর এক ধরনের নজরদারি ও ভয় দেখানোর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় দোষীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ। সমাজকর্মীরা বলছেন, রাস্তায় ছোট ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। রাজ্যে শান্তি ও সহাবস্থান বজায় রাখতে কড়া পদক্ষেপ জরুরি। এই ঘটনাগুলি ওড়িশার বাড়তে থাকা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মত অনেকের।


