মণিপুরের চুরাচাঁদপুর জেলায় শুক্রবার কার্যত থমকে গেল জনজীবন। কুকি–জো সম্প্রদায়ের একাধিক সংগঠনের ডাকা ২৪ ঘণ্টার বন্ধে পাহাড়ি এই জেলার অফিস, বাজার, স্কুল ও ব্যাঙ্ক সবই বন্ধ ছিল। রাস্তায় প্রায় কোনও যানবাহন দেখা যায়নি। সকাল থেকেই জনমানবশূন্য হয়ে পড়ে গোটা এলাকা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, মণিপুরে নতুন সরকার গঠন হল বুধবার। বিজেপি নেতা ও এনডিএ বিধায়ক দলনেতা ইউম্নাম খেমচাঁদ সিং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত হিংসায় জর্জরিত এই রাজ্যে গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি ছিল। এদিন কুকি সম্প্রদায়ের বিজেপি বিধায়ক নেমচা কিপজেন এবং নাগা পিপলস ফ্রন্টের এল ডিখো ডেপুটি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
নতুন রাজ্য সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় কুকি–জো সম্প্রদায়ের বিধায়কদের অংশগ্রহণের প্রতিবাদেই এই বন্ধ ডাকা হয়। সংগঠনগুলির দাবি, রাজ্যে যখন অশান্তি চলছে, তখন সম্প্রদায়ের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সরকার গঠনে যুক্ত হওয়া উচিত নয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই ক্ষোভে ফুঁসছে পাহাড়ি এলাকার মানুষ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। চুরাচাঁদপুরের তুইবং এলাকায় রাতভর বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ চলে। সন্ধ্যা ছ’টা থেকে ভোর প্রায় তিনটে পর্যন্ত দফায় দফায় ধস্তাধস্তি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। বিক্ষোভকারীদের তরফেও ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। এই সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তুইবং বাজার ও বন দপ্তরের গেটের কাছে কয়েকজন যুবক টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান। ডেপুটি মুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপজেনের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলা হয়। প্রথমদিকে ভিড় বেশি থাকায় নিরাপত্তা বাহিনী কিছুটা পিছিয়ে যায়, পরে অতিরিক্ত বাহিনী এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। শুক্রবার শুধু চুরাচাঁদপুর নয়, তেংনৌপাল-সহ অন্য পাহাড়ি এলাকাতেও প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। কোথাও কোথাও বিক্ষোভকারীরা লাঠি নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গাড়ি আটকে দেন। কুকি উইমেন অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস, জয়েন্ট ফোরাম অব সেভেন এবং কুকি স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন-সহ একাধিক সংগঠন এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
রাজনৈতিকভাবে এই অশান্তির পেছনে রয়েছে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন। কুকি–জো সম্প্রদায়ের দশজন বিধায়কের মধ্যে তিনজন—নেমচা কিপজেন, এলএম খাউটে ও নগুরসাংলুর সানাতে—সরকার গঠনে যুক্ত হয়েছেন। কুকি–জো কাউন্সিল ইতিমধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক বয়কটের ঘোষণা করেছে।


