উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউ শহরে কথিত অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা বসবাসের অভিযোগ ঘিরে টানা এক মাস ধরে বিশেষ অভিযান চালাল পুলিশ। তবে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর প্রশাসনের হাতে এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি, যা এই দাবিকে সত্য প্রমাণ করে। বরং তদন্তে দেখা গিয়েছে, শহরের সাফাই ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত বেশিরভাগ কর্মীই অসমের বাসিন্দা এবং তারা বৈধ ভারতীয় নাগরিক।
গত কয়েক মাস ধরে কয়েকটি ডানপন্থী সংগঠন ও রাজনৈতিক মহল থেকে দাবি উঠছিল, লখনউয়ের বিভিন্ন বস্তিতে বিপুল সংখ্যায় বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন। বিশেষ করে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিকে ঘিরে এই অভিযোগ বেশি শোনা যায়। এর জেরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়।
এই প্রেক্ষিতে পুলিশ একাধিক থানা এলাকায় একযোগে তল্লাশি চালায়। ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল, অস্থায়ী বসতি এবং স্যানিটেশন কর্মীদের আবাসে গিয়ে কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হয়। গোয়েন্দা শাখার সহায়তায় পরিচয় যাচাইও করা হয়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নথি পরীক্ষা, জিজ্ঞাসাবাদ, সবই করা হয় নিয়ম মেনে।
যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বাবলু কুমার জানান, তদন্তে কোনও বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা নাগরিকের খোঁজ পাওয়া যায়নি এবং তাদের কাছে বৈধ ভারতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। রাজনৈতিক চাপের কারণেই এই অভিযান জোরদার করা হয়েছিল বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। মেয়র ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরাও কয়েকটি স্যানিটেশন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
শেষ পর্যন্ত পুলিশি যাচাইয়ে স্পষ্ট হয়েছে, শহরে ছড়ানো ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ নিয়ে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তার বাস্তব ভিত্তি নেই। এই ঘটনা তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্বকে আরও একবার সামনে এনে দিল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা সন্দেহ ছড়ানো থেকে বিরত থাকার বার্তা দিল।


