প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে থাকা তিনটি বিশেষ তহবিলকে ঘিরে সংসদে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকবে না— এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে লোকসভার সচিবালয়কে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানো একটি চিঠিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, এই তহবিলগুলিকে নিয়ে সাংসদরা লিখিত বা মৌখিক কোনও প্রশ্ন করতে পারবেন না। সম্প্রতি প্রকাশিত এক সংবাদ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য সামনে এসেছে।
জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি এই চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে লোকসভার নিয়মবিধির কয়েকটি ধারা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, যেসব বিষয় সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের আওতায় পড়ে না বা সরকারের অর্থ দিয়ে পরিচালিত নয়, সেগুলি নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় না।
যে তিনটি তহবিলের কথা বলা হয়েছে, সেগুলি হল— পিএম কেয়ার্স, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল এবং জাতীয় সামরিক তহবিল। এই তিনটির দেখভাল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর করে। পিএম কেয়ার্স তৈরি হয়েছিল ২০২০ সালে, করোনার সময়। জরুরি পরিস্থিতি বা বড় ধরনের বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই তহবিলে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা পড়েছে। এটি একটি জনহিতকর ট্রাস্ট হিসেবে নথিভুক্ত এবং দিল্লিতে এর নিবন্ধন রয়েছে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিলের সূচনা স্বাধীনতার পরপরই। দেশভাগের সময় উদ্বাস্তুদের পাশে দাঁড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগেও এই তহবিল থেকে সহায়তা দেওয়া হয়। জাতীয় সামরিক তহবিল মূলত সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দিতে ব্যবহার করা হয়। এই তহবিল পরিচালনার দায়িত্ব একটি কমিটির হাতে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বক্তব্য, এই তিনটি তহবিলই সাধারণ মানুষের অনুদানের টাকায় চলে। সরকারি কোষাগার থেকে কোনও অর্থ এখানে ব্যবহার করা হয় না। সেই কারণেই এগুলিকে সংসদের প্রশ্নোত্তরের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
তবে বিষয়টি সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির একাংশ মনে করছে, জনগণের অর্থে গঠিত তহবিল সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন।


