সুন্দরবনের দূরবর্তী দ্বীপাঞ্চল বাসন্তী প্রকৃতির অপরূপ রূপে ঘেরা হলেও, এখানকার মানুষের জীবন সহজ নয়। যাতায়াত ব্যবস্থা দুর্বল, ভালো স্কুল-কলেজের অভাব, চিকিৎসার সীমিত সুযোগ এবং স্থায়ী আয়ের পথ না থাকায় বহু পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই অঞ্চলের মানুষ অনেক সময় নিজেকে অসহায় মনে করেন।
এই পরিস্থিতিতে এগিয়ে এসেছেন বাসন্তীরই সন্তান মাওলানা আনোয়ার হোসেন কাশেমী। তাঁর উদ্যোগে ২০১৬ সালে নির্দেশখালিতে গড়ে ওঠে সুন্দরবন আল-মানার মিশন। প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য শুধু ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া নয়, তার সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে নৈতিক ও স্বনির্ভর সমাজ গঠন করা। শুরুতে নানা বাধা থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই মিশনটি এলাকার মানুষের আস্থা অর্জন করে। এই প্রতিষ্ঠানে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ সমানভাবে সহযোগিতা পান। দরিদ্র পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় খাবার, পোশাক ও বিশুদ্ধ পানীয় জল। ছাত্রছাত্রীদের জন্য বই-খাতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়। অনেক বেকার যুবককে কাজের সুযোগ করে দিতে রিকশা-ভ্যান ও অন্যান্য উপকরণ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।
রমজান মাসে অসচ্ছল ও বিধবা নারীদের মধ্যে ইফতারের সামগ্রী বিতরণ করা হয়। মেয়েদের শিক্ষার উপর বিশেষ জোর দিয়ে আলাদা ও নিরাপদ ক্যাম্পাস তৈরি করা হয়েছে, যেখানে তারা নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করতে পারছে। এছাড়া মিশনের তত্ত্বাবধানে একটি হাসপাতাল চালু রয়েছে, যা সব ধর্মের মানুষের জন্য উন্মুক্ত। এক সাক্ষাৎকারে মাওলানা কাশেমী বলেন, প্রকৃত ধর্মীয় শিক্ষা মানুষকে মানবিক হতে শেখায়। সেই ভাবনা থেকেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে। সুন্দরবনের এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে


