উত্তরপ্রদেশের মীরাট জেলায় ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ২০০ জনের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, যাদের নাম কাটা হয়েছে তাদের বেশিরভাগই মুসলিম সম্প্রদায়ের বাসিন্দা। ঘটনাটি সামনে আসতেই এলাকায় ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
মীরাটের আমিনাবাদ গ্রামের বাসিন্দারা জানান, স্থানীয় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তারা জানতে পারেন তাদের নামে আগে থেকেই ফর্ম–৭ পূরণ করা রয়েছে এবং তা বুথ লেভেল অফিসারের কাছে জমা পড়েছে। অথচ এই ফর্মে স্বাক্ষর বা আবেদন করার বিষয়ে তাদের কিছুই জানা ছিল না।
গ্রামবাসীদের দাবি, মোট ২০০ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৬০ জন জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাদের ‘মৃত’ বা ‘স্থানান্তরিত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা আমিনাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন। বিক্ষোভের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়।
গ্রামের প্রধান তালিব চৌধুরীর অভিযোগ, এলাকার এক ব্যক্তি এই ফর্মগুলি জমা দিয়েছেন। তার দাবি, বিজেপি ঘনিষ্ঠ ওই ব্যক্তি বুথ কর্মীদের বিশেষ করে মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দিতে চাপ দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, অনেক সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষকে ফর্মে ‘মৃত’ বা ‘অন্যত্র চলে গেছেন’ বলে দেখানো হয়েছে।
বাদ পড়া তালিকা থেকে মহম্মদ আয়াজ নামক এক ব্যক্তি জানান, তাকে ভিনরাজ্যে চলে গেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বুথ লেভেল অফিসার মহম্মদ জাফরও বলেন, মনবীর নামে এক ব্যক্তি তাকে ফর্মগুলি দিয়েছিলেন, তবে পরিচয়পত্র চাইলে তিনি তা দেখাতে অস্বীকার করেন।
জেলা শাসক ভি. কে. সিং বলেন, গ্রামবাসীদের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আশ্বাস দেন, আইনি প্রক্রিয়া মেনেই ভোটার তালিকা সংশোধন করা হয় এবং প্রত্যেকের ভোটাধিকার সুরক্ষিত থাকবে। তদন্তের পর সংশ্লিষ্ট বুথ অফিসারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে, স্বচ্ছ তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন সমাজকর্মীরা। স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের আশঙ্কা, পরিকল্পিতভাবে তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, যা এলাকায় আতঙ্ক বাড়িয়েছে।


