দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকা অভিযুক্তদের পরিবারের যন্ত্রণা যেন শেষ হচ্ছে না। এমনটাই জানান এক সাম্প্রতিক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে উমর খালিদের বাবা ড. কাসিম রসুল। ছেলের প্রসঙ্গ তুলতেই তার গলা কার্যত কেঁপে ওঠে। তিনি জানান, উমর বিদেশের একটি নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেও তা গ্রহণ করেননি। দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে থেকে কাজ করাই ছিল তার লক্ষ্য। ড. রসুল বলেন, তার ছেলে কখনও বিদেশে স্থায়ী হওয়ার কথা ভাবেনি, এমনকি পাসপোর্টের জন্যও আবেদন করেনি। সমাজের প্রান্তিক মানুষের সমস্যা নিয়ে কাজ করার স্বপ্নই ছিল তার।
২০২০ সালের দিল্লির সহিংসতার ঘটনাকে ঘিরে দায়ের হওয়া মামলায় উমর খালিদ ও শারজিল ইমামকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হয়েছে। পাঁচ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও বিচারপ্রক্রিয়া পুরোপুরি শুরু হয়নি। সম্প্রতি সর্বোচ্চ আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করায় পরিবারগুলির হতাশা আরও বেড়েছে। বক্তাদের মতে, দীর্ঘদিন বিচার শুরুর আগেই আটক থাকা দেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার নানা দুর্বলতাকে সামনে আনছে।
তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনকে পরে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগে জড়িয়ে দেওয়া হয়। পুরো মামলাটি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সবাই উপস্থিত থাকা অনেকেই। তাদের দাবি, মত প্রকাশের অধিকারকে দমন করতেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই সভায় শহীদ আজমির জীবনের কথাও উঠে আসে। তিনি একসময় সন্ত্রাসবাদ মামলায় গ্রেফতার হয়ে সাত বছর কারাবন্দি ছিলেন। পরে আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হন। মুক্তির পর তিনি আইন পেশায় ফিরে এসে একই ধরনের মামলায় অভিযুক্তদের পক্ষে লড়াই শুরু করেন। ২০১০ সালে তার হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে। বক্তারা বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর যে সাহস তিনি দেখিয়েছিলেন, তা আজও অনেককে অনুপ্রাণিত করে।
এদিন উপস্থিত ছিলেন ভীমা কোরেগাঁও মামলায় অভিযুক্ত ‘বি কে ১৬’-এর জামিনে মুক্ত কয়েকজন, যেমন অধ্যাপক হ্যানি বাবু, সুধা ভরদ্বাজ ও ভার্নন গঞ্জালভেস। এছাড়া ৭/১১ মুম্বাই ট্রেন বিস্ফোরণ মামলার কয়েকজন প্রাক্তন বন্দিও ছিলেন, যাঁরা বহু বছর জেলে থাকার পর ২০২৫ সালে বেকসুর খালাস পান।


