রমজানের ঠিক আগে রাজ্যজুড়ে প্রকাশ্যে মাংস বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল বিহার সরকার। শুধুমাত্র বৈধ লাইসেন্স থাকা ব্যবসায়ীরাই নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে মাংস বিক্রি করতে পারবেন। ১৬ই ফেব্রুয়ারি রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, রাস্তার ধারে বা উন্মুক্ত স্থানে আর মাংস বিক্রি করা যাবে না। নিয়ম ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিধান পরিষদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, লাইসেন্স ছাড়া কোনও ব্যবসায়ী মাংস বিক্রি করতে পারবেন না।
ইতিমধ্যেই সব জেলা প্রশাসন ও পুরসভাকে কড়াভাবে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে যাতে নিয়ম কার্যকর করা হয়। সম্প্রতি দরভাঙ্গায় এক জনসংলাপে কিছু বাসিন্দা অভিযোগ করেন, রাস্তার পাশে খোলা মাংসের দোকানের কারণে অনেকেই নির্দিষ্ট রাস্তা ব্যবহার করতে অস্বস্তি বোধ করেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেও সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মাংসের দোকানে পর্দা বা গাঢ় কাচ ব্যবহার করে মাংস আড়াল করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন নজরদারি বাড়িয়েছে এবং দরভাঙ্গার মতো কিছু জায়গায় ইতিমধ্যেই খোলা বিক্রি বন্ধ হয়েছে।
তবে সিদ্ধান্তের সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রমজান মাসে সাধারণত মাংসের চাহিদা বাড়ে। ফলে বহু ছোট ব্যবসায়ী দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। পাটনার এক মাংস বিক্রেতা জানান, “নিয়ম মানতে আপত্তি নেই, কিন্তু হঠাৎ করে সব বদলে গেলে ছোট ব্যবসায়ীদের পক্ষে মানিয়ে নেওয়া কঠিন। লাইসেন্স পেতে সময় ও সহায়তা দরকার।” বিরোধী দলগুলিও প্রশ্ন তুলেছে, এই পদক্ষেপে কি অতীতে ঘটে যাওয়া হয়রানির সমাধান হবে।


