দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংবিধানের মূল্যবোধ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে জামায়াত উলামা-ই-হিন্দ এর সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ এর প্রধান মহান ভগত-এর বক্তব্যকে ঘিরে।
বুধবার সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় মাদানি “ঘর ওয়াপসি” কর্মসূচি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আহ্বানকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। তার দাবি, গত সাত দশকে কখনও “কুড়ি কোটি মুসলমানের ঘর ওয়াপসি” নিয়ে এভাবে প্রকাশ্যে আলোচনা শোনা যায়নি। তিনি বলেন, এ ধরনের মন্তব্য দেশের শান্তি ও ঐক্যের পক্ষে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তার মতে, যে কোনও বক্তব্য যা মানুষে মানুষে বিভেদ বাড়ায়, অশান্তি ডেকে আনে বা পারস্পরিক বিদ্বেষ সৃষ্টি করে, তা দেশের প্রতি আনুগত্যের পরিচয় হতে পারে না।
উল্লেখ্য, এর আগের দিন লখনউয়ে এক সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে ভাগবত হিন্দু সমাজকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন এবং যারা পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরতে চান, তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হিন্দুদের কোনও সরাসরি হুমকি নেই, তবে জনসংখ্যা হ্রাস ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
মাদানি তার প্রতিক্রিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলিতে গোরক্ষা ইস্যুতে গণপিটুনি ও হত্যার ঘটনাগুলির কথাও উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, দেশে এখন এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে যেখানে হিংসা ও আতঙ্ক বাড়ছে। তিনি দাবি করেন, অনেক সময় এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সরকারের ভূমিকা যথেষ্ট দৃঢ় নয়। কিছু গোষ্ঠী এমন ধারণা ছড়াচ্ছে যে নির্দিষ্ট মতাদর্শের অনুসারীরাই কেবল এই দেশে থাকার অধিকার রাখে, যা সংবিধানের মূল চেতনাবিরোধী।
কাউকে সরাসরি নাম না করে মাদানি সতর্ক করেন, এ ধরনের চিন্তাধারা দেশের ঐক্য ও শান্তির জন্য বিপজ্জনক। তিনি জানান, তার সংগঠন বরাবরই সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরোধিতা করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থান বজায় রাখবে।
মাদানির স্পষ্ট বক্তব্য, মুসলমানরা নিজেদের ধর্মে অটল থাকবে। তার মতে, সত্যিকারের শান্তি ও সহাবস্থান কেবল একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও সংবিধানসম্মত কাঠামোর মধ্যেই সম্ভব। তিনি আরও বলেন, কোনও ধর্মই হিংসার শিক্ষা দেয় না; সব ধর্মই মানবতা, সহনশীলতা ও ঐক্যের বার্তা বহন করে। যারা ধর্মের নাম ভাঙিয়ে ঘৃণা ছড়ায়, তারা প্রকৃত অর্থে কোনও ধর্মেরই অনুসারী হতে পারে না।


