তেলেঙ্গানার সাঙ্গারেড্ডি জেলায় মসজিদ-ই-মওলানা ভাঙার ঘটনাকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক দল, স্থানীয় সমাজনেতা ও মানবাধিকার সংগঠন এই পদক্ষেপের আইনগত ভিত্তি ও সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে সাদাশিবপেট এলাকায়।রাজস্ব দপ্তরের কর্মকর্তারা দাবি করেন, মসজিদটি সরকারি শ্রেণিভুক্ত “ইনাম জমি”-র উপর অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছিল। সেই কারণেই সেটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, রমজান শুরুর সময়, নামাজ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই হঠাৎ করে এই মসজিদ ভাঙার কাজ শুরু হয়। এতে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলে তাদের বক্তব্য।এলাকার বাসিন্দারা জানান, মসজিদটির নির্মাণকাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছিল এবং সপ্তাহের শুরুতেই সেখানে নিয়মিত নামাজ পড়া শুরু হয়। অভিযোগ, আগে থেকে কোনও নোটিস না দিয়েই প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এক বাসিন্দা বলেন, “আইনি সমস্যা থাকলে আগে জানানো যেত, আদালতের সুযোগ দেওয়া যেত। রমজানে মসজিদ ভাঙা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।”জমির দাবিদার মহম্মদ কালিম জানান, তিনি দুই বছর আগে হায়দরাবাদের এক বাসিন্দা রাজুর কাছ থেকে সার্ভে নম্বর ১৬৫ জমিটি কিনেছিলেন। সেই সময় থেকে তিনি জমিটি দখলে রেখেছিলেন এবং সেখানে বোরওয়েলও বসান। তখন কোনও আপত্তি ওঠেনি বলে তার দাবি। তার কথায়, শান্তিপূর্ণভাবে নামাজের জন্যই মসজিদটি তৈরি করা হয়েছিল।এ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন আসাউদ্দিন ওয়াইসি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দুই বছর ধরে কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে হঠাৎ করে নির্মাণ শেষ হওয়ার পর কেন এই পদক্ষেপ নেওয়া হল। তার দল স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ নিয়েছে। এআইএমআইএম ও মজলিশ বাঁচাও তেহরিক অভিযোগ করেছে, পুরো প্রক্রিয়ায় নিয়ম মানা হয়নি। তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও মসজিদ পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছে।রাজ্য রাজস্ব দপ্তর জানিয়েছে, সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনার পর সংখ্যালঘু মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলি স্বচ্ছ তদন্ত ও ন্যায্যতার দাবি তুলেছে। পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত, প্রশাসন নজর রাখছে।
Popular Categories


