শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তালিকা প্রকাশের পরই রাজ্য জুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ। কারণ, প্রায় ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংখ্যাটা ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫। অর্থাৎ প্রায় ৮.৫ শতাংশ ভোটার এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে। এই ভোটারদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকলেও আপাতত তারা ভোট দিতে পারবেন না। আদালতের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তাদের অধিকার স্থগিত থাকবে। ফলে স্বাভাবিক একটি সংশোধন প্রক্রিয়া বড়সড় প্রশাসনিক জটিলতায় পরিণত হয়েছে।
জেলা ভিত্তিক তথ্য বলছে, মাত্র পাঁচটি জেলায় অস্বাভাবিক হারে এই চিহ্নিতকরণ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুর, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা। শুধু মুর্শিদাবাদেই বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা ১১ লক্ষের বেশি। মালদায় ৮ লক্ষ ২৮ হাজারেরও বেশি এবং উত্তর দিনাজপুরে প্রায় ৪ লক্ষ ৮০ হাজার নাম চিহ্নিত হয়েছে। দুই ২৪ পরগনাতেও সংখ্যাটা উল্লেখযোগ্য—উত্তর ২৪ পরগনায় প্রায় ৫ লক্ষ ৯১ হাজার এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৫ লক্ষ ২২ হাজারের বেশি।
এছাড়া পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া ও কোচবিহারেও কয়েক লক্ষ ভোটারের নাম এই তালিকায় রয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে সংখ্যাটা বেশি হওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০ ফেব্রুয়ারি প্রস্তুত করা নির্বাচন কমিশনের এক অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে দেখা গিয়েছিল, বহু ভোটার প্রাথমিক যাচাই প্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। মাইক্রো অবজারভার এবং রোল অবজারভাররা লক্ষাধিক নাম যাচাই করে অনুমোদনও দিয়েছিলেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী নির্দেশের পর হঠাৎ করেই বহু নাম বিচারাধীন তালিকায় চলে যায়।
উদাহরণ হিসেবে মুর্শিদাবাদে ১৫ লক্ষের বেশি ভোটার প্রথমে যাচাইয়ে পাস করেছিলেন। অথচ এখন সেখানেই ১১ লক্ষের বেশি নাম বিচারাধীন। একই ছবি উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও দেখা যাচ্ছে। পোলিং স্টেশন স্তরের তথ্যেও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। কিছু কেন্দ্রে সংখ্যালঘু ভোটারদের বড় অংশ চিহ্নিত হলেও পাশের হিন্দু অধ্যুষিত কেন্দ্রে সংখ্যাটা খুবই কম। এই পার্থক্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তুঙ্গে।
সব মিলিয়ে চূড়ান্ত তালিকায় এখন মোট ভোটারের সংখ্যা ৭ কোটি ৪ লক্ষ। ডিসেম্বরের খসড়া তালিকার তুলনায় প্রায় ৪ লক্ষ কমেছে। আর গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় কমেছে প্রায় ৬২ লক্ষ নাম। ভোটের মুখে এমন পরিস্থিতি রাজ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।


