ইসলামে, নিজের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়াকে তাওবা বলা হয়। আর ক্ষমা চাওয়াকে বলা হয় ইস্তেগফার। কেউ যদি ভুল কাজ করার পর মনে কষ্ট পায় এবং ভবিষ্যতে তা আর না করার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই প্রকৃত তাওবা। শুধু মুখে ক্ষমা চাইলে তা ইস্তেগফার হিসেবে গণ্য হয়।
মানুষ হিসেবে ভুল হওয়া স্বাভাবিক। ইচ্ছায় বা না জেনে, বিভিন্নভাবে পাপ সংঘটিত হয়। তাই আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া প্রত্যেকের জন্য জরুরি। হাদিসে এসেছে, আদম সন্তানের সবাই ভুল করে, তবে উত্তম তারা, যারা বারবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়। নবী-রাসূলগণ ছাড়া কেউ সম্পূর্ণ নির্ভুল নন। তবুও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সবচেয়ে বেশি আল্লাহভীরু ও ক্ষমা প্রার্থনাকারী। যদিও আল্লাহ তাঁকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন, তবুও তিনি নিয়মিত ইবাদত ও দোয়ার মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন। এক সাহাবি তাঁর বেশি ইবাদতের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হতে চান।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহর বহু গুণের মধ্যে ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু নাম দুটি বিশেষভাবে উল্লেখ রয়েছে। তিনি বান্দাদের আন্তরিকভাবে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, খাঁটি তাওবা করলে গুনাহ মাফ করবেন এবং জান্নাত দান করবেন।
বিশেষ করে রাতের শেষ ভাগ তাওবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময় মানুষ নিরিবিলিতে মনোযোগ দিয়ে প্রার্থনা করতে পারে। হাদিসে বর্ণিত আছে, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ বান্দাদের ডেকে বলেন, কে আছে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দেব; কে আছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব। রমযান মাস তাওবা ও আত্মশুদ্ধির অনন্য সুযোগ। সাহরির সময় ঘুম থেকে উঠে অনেকেই নামাজ আদায় করেন এবং অশ্রুসজল চোখে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এই আন্তরিক আবেদন আল্লাহর কাছে অবশ্যই মূল্যবান ও কবুলযোগ্য।


