রাজ্যে নতুন করে প্রকাশিত ভোটার তালিকা ঘিরে বড় বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিভিন্ন কারণে যাচাইয়ের তালিকায় রাখা হয়েছে বা স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক নাম একসঙ্গে স্থগিত হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।
মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলায় বহু মানুষের নাম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই দুই জেলা মিলিয়ে প্রায় ২০ লক্ষ ভোটারের নাম এখন নিশ্চিত নয়। মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১ লক্ষের বেশি এবং মালদহে ৮ লক্ষেরও বেশি মানুষের নাম নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এর পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, যেখানে কয়েক লক্ষ করে নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বা যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে চরম উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বহু মানুষ দাবি করছেন, দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা সত্ত্বেও তাঁদের ভোটাধিকার নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশের অভিযোগ, তাঁদের নামই তুলনামূলক বেশি হারে আটকে রাখা হয়েছে। যদিও প্রশাসনের তরফে বিষয়টি যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ বলে জানানো হয়েছে, তবুও সাধারণ মানুষের আশঙ্কা কমছে না।
মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে SIR প্রক্রিয়া শুরুর আগে সাধারণ মানুষ দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, “আমি বেঁচে থাকতে একটাও SIR হতে দেবো না!” বিরোধীরা (মূলত কংগ্রেস ও সিপিএম) ইতিমধ্যে কটাক্ষ করছে, মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রাখলেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে রাজ্যে বসবাসকারী লক্ষাধিক মুসলিমদের পাশে কি দাঁড়াবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
ভোটাধিকার গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। তাই এত মানুষের নাম নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলিও সরব হয়েছে। বিরোধীরা স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুলেছে। অনেকেই মনে করছেন, দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
এই মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে মানুষের মুখে একটাই প্রশ্ন, তাঁদের নাম কি চূড়ান্ত তালিকায় ফিরবে? নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উৎকণ্ঠা।


