আসন্ন বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে গত শনিবার ভারতের নির্বাচন কমিশন প্রথম পর্যায়ের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকা প্রকাশের পরই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। নতুন তালিকায় দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের বহু ভোটারের নামের পাশে বিচারাধীন উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, তাঁদের নাম নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এই পরিস্থিতি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, বিষয়টি ইতিমধ্যেই শীর্ষ আদালতের নজরে এসেছে। আদালতের নির্দেশে বিচারিক আধিকারিকরা এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসবেন। তবে প্রশ্ন উঠছে, যাঁদের নাম এখনও বিচারাধীন, তাঁরা কি ভোটের দিন নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন? এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
এই তালিকায় সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি পরিচিত মুখদের নামও রয়েছে। রয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সদস্য রিচা ঘোষ, রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচনার মুখে পড়েছে কমিশনের কাজের ধরন এবং শুনানি প্রক্রিয়া।
অন্যদিকে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, এই পরিস্থিতির জন্য ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং সহকারী ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের গাফিলতি দায়ী। এঁরা সাধারণত বিডিও বা এসডিও পদমর্যাদার আধিকারিক। কিন্তু এই অভিযোগ মানতে নারাজ রাজ্য সিভিল সার্ভিসের অফিসারদের সংগঠন ডব্লিউবিসিএসইওএ। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশোধন পর্বে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা নিয়ম মেনেই কাজ করেছেন। প্রতিটি আবেদনের শুনানি হয়েছে, প্রয়োজনীয় নথি নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে এবং যথাযথ নির্দেশ জারি করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে কমিশন নিযুক্ত অবজার্ভাররা আগে নিষ্পত্তি হওয়া মামলায় আপত্তি জানিয়েছেন এবং স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ফাইল ফেরত পাঠিয়েছেন। এর ফলেই বহু নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
অফিসার সংগঠনের বক্তব্য, নিচুতলার কর্মীদের উপর দোষ চাপানো অন্যায় এবং এতে তাঁদের মনোবল ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে কমিশন ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। প্রকাশ্যে একে অপরকে দায়ী করলে সেই সমন্বয় ব্যাহত হতে পারে, যা অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট প্রক্রিয়ার পক্ষে শুভ নয়। সব মিলিয়ে ভোটের আগে এই বিতর্ক নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে চাপ বাড়িয়েছে। এখন নজর আদালত ও কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।


