পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতে এখন নতুন এক বাস্তবতা সামনে এসেছে। ইরানের তুলনামূলক সস্তা ড্রোনের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে বড়সড় আর্থিক চাপে পড়ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লড়াই এখন শুধু অস্ত্রের নয়, খরচের দিক থেকেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের ‘শাহেদ–১৩৬’ সিরিজের একটি ড্রোন তৈরি করতে খরচ হয় মাত্র ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। কিন্তু এই ড্রোন আকাশে ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র যে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ব্যবহার করছে, তার একেকটির দাম প্রায় ৪০ লক্ষ বা ৪ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ একটি সস্তা ড্রোন নামাতে অনেক বেশি দামি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটিই ইরানের বড় কৌশল। বিপুল সংখ্যায় সস্তা ড্রোন পাঠিয়ে তারা মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। এতে একদিকে যেমন দামি ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত খরচ হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
এই ড্রোন হামলা শুধু সামরিক ঘাঁটিতেই সীমাবদ্ধ নয়। উপসাগরীয় অঞ্চলের বন্দর, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং তেল শোধনাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোকেও লক্ষ্য করা হচ্ছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
যদিও প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যবস্থা ৯০ শতাংশের বেশি ড্রোন ধ্বংস করতে পারে বলে দাবি করা হয়, তবুও যদি একইভাবে ড্রোন হামলা চলতে থাকে, তাহলে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, ইরান এমন এক ধরনের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ শুরু করেছে যেখানে প্রতিরক্ষার জন্য অনেক বেশি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে এই সংঘাত চালিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।


