মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা সংঘাতের নবম দিনে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা আগের চেয়ে বেশি তীব্র হয়েছে। তবে লাগাতার আক্রমণের মধ্যেও ইরান নিজেদের প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং তারা জানিয়েছে যে এই লড়াই থেকে পিছিয়ে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা তাদের নেই।
রবিবার ইসরাইলি বাহিনী ইরানের বেশ কয়েকটি জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। রাজধানী তেহরানের একটি তেল শোধনাগারে এই হামলার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আগুন থেকে ঘন কালো ধোঁয়া আকাশ ঢেকে ফেলেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, তেহরান ও আশপাশের এলাকায় মোট চারটি তেল শোধনাগার এবং জ্বালানি মজুত কেন্দ্রে আঘাত করা হয়েছে। যুদ্ধের নীতি লংঘন করে ইসরায়েলের এই হামলায় অন্তত চারজন নিরীহ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
ইরানের তেলজাত পণ্য বিতরণ সংস্থার প্রধান কেরামত ভেইস্কারামি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানান, তেহরান ও আলবোরজ অঞ্চলের চারটি তেল ডিপো এবং একটি পরিবহন কেন্দ্রে রাতের বেলা বোমা হামলা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজন ছিলেন তেলবাহী ট্যাঙ্কারের চালক। তিনি বলেন, স্থাপনাগুলোর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের সামরিক শক্তিকে দুর্বল করার লক্ষ্যেই তেলের ভাণ্ডারগুলিকে বেছে নেওয়া হয়েছে, কারণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে সেনাবাহিনীর কার্যক্রমে বড় প্রভাব পড়তে পারে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির কাছে একটি জল পরিশোধন কেন্দ্র ধ্বংস করেছে, যেখান থেকে বহু গ্রামে পানীয় জল সরবরাহ করা হতো। তিনি এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে ইরানে এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি অসহায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তাদের পাল্টা আক্রমণে দুই শতাধিক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। গত এক দিনে মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।


