কোচবিহারে ভোটার তালিকায় নির্বাচন কমিশনের SIR ঘিরে বিভিন্ন মহলে অসন্তোষ বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, ভোটার তালিকায় তথাকথিত ‘লজিক্যাল অসামঞ্জস্য’ দেখিয়ে বহু বৈধ ভোটারকে বিচারাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে। এর ফলে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করেছে কয়েকটি সংগঠন।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে আজ ৯ মার্চ কোচবিহারে বড় আন্দোলনের ডাক দিলো নস্যশেখ উন্নয়ন পরিষদ এবং অল বেঙ্গল ইমাম মোয়াজ্জেম অ্যাসোসিয়েশন। আজ প্রায় দশ হাজারের বেশি মানুষ নিয়ে একটি বিশাল মিছিল বের করা হয়।
সংগঠনগুলির পরিকল্পনা অনুযায়ী, মিছিলটি কোচবিহারের রাসমেলার মাঠ থেকে শুরু হয়ে জেলা প্রশাসনের দফতরের দিকে যায়। পরে জেলাশাসকের মাধ্যমে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। এতে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
নস্যশেখ উন্নয়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান আমিনাল হক সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাই তাদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করা উচিত। কিন্তু বাস্তবে বহু প্রকৃত ভোটারের নাম সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর মতে, ২০০২ সালে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও এখনও অনেকের নাম অযথা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
আমিনাল হকের দাবি, এই পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তিনি বলেন, যতদিন পর্যন্ত প্রকৃত নাগরিকদের নাম আবার ভোটার তালিকায় ফিরিয়ে দেওয়া না হচ্ছে, ততদিন নির্বাচন ঘোষণা করা উচিত নয়। অন্যদিকে অল বেঙ্গল ইমাম মোয়াজ্জেম অ্যাসোসিয়েশনের কোচবিহার জেলা সম্পাদক মহসিন আলী অভিযোগ করেন, বিচারাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রায় ৯০ শতাংশ মুসলিম ভোটারের নাম এই তালিকায় রাখা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।


