Saturday, September 5, 2026
30 C
Kolkata

সংখ্যালঘু নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে RSS ও RAW-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ মার্কিন কমিশনের

ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক কড়া সুপারিশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিশন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) তাদের ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের আরও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

গত ৪ মার্চ প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে কমিশন বলেছে, ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগে ভারতের কয়েকটি ব্যক্তি ও সংস্থার বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা বিবেচনা করা উচিত। প্রতিবেদনে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং এবং সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের মতে, এই সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদ জব্দ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন কংগ্রেসের উচিত ২০২৪ সালের ট্রান্সন্যাশনাল রিপ্রেশন রিপোর্টিং অ্যাক্ট আবার নতুন করে উত্থাপন ও পাস করা। এই আইনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারের কোনও চাপ বা হস্তক্ষেপ হলে তা প্রতি বছর রিপোর্ট আকারে প্রকাশ করার প্রস্তাব রয়েছে।

কমিশনটি একটি স্বাধীন ও দ্বিদলীয় সংস্থা, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি নিয়ে নজরদারি করে। তাদের রিপোর্টে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী ভারতে ধারাবাহিকভাবে গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে বলে তারা মনে করে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ভারতে কিছু আইন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর প্রভাব ফেলছে।
উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বৈদেশিক অবদান নিয়ন্ত্রণ আইন, বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন,
প্রস্তাবিত ওয়াক্‌ফ বিল এবং নতুন অভিবাসন সংক্রান্ত বিলের মতো আইনগুলির কথা।

পাশাপাশি দণ্ডবিধির ২৯৫এ ধারাকেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে—এমন অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ২৮টি রাজ্যের মধ্যে অন্তত ১২টিতে ধর্মান্তর বিরোধী আইন কার্যকর রয়েছে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সামাজিক উত্তেজনা বা হামলার ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বের মোট ১৮টি দেশকে “বিশেষ উদ্বেগের দেশ” হিসেবে চিহ্নিত করার সুপারিশ করেছে এই কমিশন। সেই তালিকায় রয়েছে ভারত। অন্যদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার অতীতেও এই ধরনের রিপোর্টকে গুরুত্বহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারের মতে, এই রিপোর্টগুলি পক্ষপাতদুষ্ট এবং দেশের বাস্তব পরিস্থিতি সঠিকভাবে তুলে ধরে না।

Hot this week

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

Related Articles

Popular Categories