বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি স্থান হল বায়তুল মুকাদ্দিস বা আল-কুদস। এই শহরেই অবস্থিত মসজিদুল আকসা, যা ইসলামের ইতিহাসে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এটি ছিল মুসলিমদের প্রথম কিবলা। এছাড়াও, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মেরাজের রাতে এখানে অন্যান্য নবীদের নিয়ে নামাজ আদায় করেছিলেন বলে মনে করা হয়। তাই এই মসজিদকে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের তৃতীয় পবিত্র স্থান হিসেবে ধরা হয়।
তবে দীর্ঘদিন ধরেই এই পবিত্র স্থানকে ঘিরে নানা বিতর্ক ও উত্তেজনা চলছে। আন্তর্জাতিক মহলে বহুবার আশ্বাস দেওয়া হলেও, বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ উঠেছে, ইসরাইলি প্রশাসন বারবার মুসল্লিদের জন্য মসজিদে প্রবেশ সীমিত করেছে। অনেক সময় খুব অল্প সংখ্যক মানুষকে সেখানে নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, অতীতে একাধিকবার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মসজিদ প্রাঙ্গণে ঢুকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
বিশেষ করে চলতি বছরের রমজান মাসে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অভিযোগ, এই সময়ে অনেক মুসলিমকে মসজিদুল আকসায় গিয়ে এশা ও তারাবিহর নামাজ পড়তে দেওয়া হয়নি। এমনকি লাইলাতুল কদরের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাতেও প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। যদিও ইসরাইলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কারণ ওই অঞ্চলে সংঘাত চলছে।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনের পর থেকেই এই অঞ্চলে অস্থিরতা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে পূর্ব জেরুসালেম-সহ বেশ কিছু এলাকা ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে আসে। সেই সময় কিছু শর্তের ভিত্তিতে ধর্মীয় স্থানগুলোতে অবাধ প্রবেশের কথা বলা হলেও, বাস্তবে তা সবসময় মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মুসলিম দেশ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তুরস্ক ও মালয়েশিয়া প্রকাশ্যে এই ঘটনার নিন্দা করেছে। তাদের বক্তব্য, ধর্মীয় স্বাধীনতায় বাধা দেওয়া আন্তর্জাতিক আইন ও বহু পুরনো ঐতিহ্যের বিরোধী। অন্যদিকে, কিছু প্রভাবশালী মুসলিম বিভিন্ন দেশের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সমস্যায় পরিনিত হতে চলেছে। মসজিদুল আকসাকে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, দ্রুত সমাধান না হলে এই সমস্যা আরও বড় সংঘাতের কারণ হতে পারে।


