Wednesday, July 22, 2026
26.3 C
Kolkata

ভোটের আগে সামাজিক মাধ্যমে কড়াকড়ি বাড়াল কেন্দ্র,পোস্ট অপসারণে বাড়তি ক্ষমতা মোদি সরকারের

চারটি রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ময়দানে প্রচারের পাশাপাশি এখন সামাজিক মাধ্যম হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। ফেসবুক, এক্স (টুইটার), ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়ভাবে নিজেদের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে প্রায় সব রাজনৈতিক দলই। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সমাজ মাধ্যমের উপর নজরদারি আরও কড়া করার চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।সরকারি সূত্রের খবর, বর্তমানে সমাজ মাধ্যমে কোনও পোস্ট বা কনটেন্ট সরানোর অধিকার মূলত ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের হাতেই সীমাবদ্ধ। তবে ভবিষ্যতে এই ক্ষমতা অন্য মন্ত্রকগুলির মধ্যেও ভাগ করে দেওয়া হতে পারে। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন, এ নিয়ে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে।জানা গেছে, বিভিন্ন মন্ত্রকের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ টিম তৈরি করা হয়েছে। এই দলটি এখন একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরির কাজে ব্যস্ত। সেই প্রস্তাবে মূলত সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়ো তথ্য, বিভ্রান্তিকর পোস্ট এবং ক্ষতিকারক কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত করে তা সরানোর ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হচ্ছে। কীভাবে বিভিন্ন মন্ত্রককে এই ক্ষমতার আওতায় আনা যায়, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা চলছে।কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মতে, বর্তমান সময়ে ভুয়ো খবর এবং বিকৃত তথ্য খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় সাধারণ মানুষ যাচাই না করেই এসব কনটেন্ট শেয়ার করে দেন, ফলে বিভ্রান্তি আরও বাড়ে। বিশেষ করে ডিপফেক ভিডিওর মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ভুয়ো কনটেন্ট এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধরনের সমস্যার মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলেই মনে করছে সরকার।তিনি আরও জানিয়েছেন, যদি বিভিন্ন মন্ত্রকের হাতেও কনটেন্ট ব্লক করার ক্ষমতা থাকে, তাহলে ক্ষতিকারক পোস্ট দ্রুত চিহ্নিত করা এবং সরানো অনেক সহজ হবে। এতে করে ভুয়ো খবরের বিস্তার কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগও বাড়বে।তবে এই প্রস্তাব ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, “ক্ষতিকারক” বা “ভুয়ো” কনটেন্টের সংজ্ঞা কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা স্পষ্ট নয়। এই অজুহাতে সরকারের সমালোচনামূলক পোস্টগুলিও সরিয়ে দেওয়া হতে পারে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।এছাড়াও, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদি একাধিক মন্ত্রক আলাদাভাবে কনটেন্ট ব্লক করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তাহলে নিয়ন্ত্রণের মাত্রা অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। এতে সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।সামাজিক মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রের নতুন পরিকল্পনা একদিকে যেমন ভুয়ো তথ্য রুখতে সহায়ক হতে পারে, তেমনই অন্যদিকে গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে নতুন প্রশ্নও তুলে দিচ্ছে।

Hot this week

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

Topics

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

‘ঘোর পাপ হয়েছে’—দু’মাস পর নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে মুখ খুললেন মোদি

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। অনেক...

দশ বছরে সংঘ-ঘনিষ্ঠ ২০ সংস্থাকে ৬৬৮ কোটির বেশি অনুদান! ওএনজিসির সিএসআর তহবিল নিয়ে বিতর্ক

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাকে সরকারি...

Related Articles

Popular Categories