Friday, March 20, 2026
21.9 C
Kolkata

কোচবিহারের ৯টি আসনে সংখ্যালঘু প্রার্থী না থাকায় তৃণমূলের তালিকা নিয়ে ক্ষোভ, নতুন সমীকরণ গড়ার ইঙ্গিত বামেদের!

২৬শে এর বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে কোচবিহারের রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করার পর থেকেই জেলায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, জেলার নয়টি বিধানসভা আসনের একটিতেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনও প্রতিনিধিকে প্রার্থী করা হয়নি—এই সিদ্ধান্ত ঘিরে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেক নেতা-কর্মী মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা সংগঠনের জন্য কাজ করলেও এবার তাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। শুধু সংগঠনের ভেতরেই নয়, এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। ফলে নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু ভোট কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়ছে।কোচবিহার জেলা ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী হওয়ায় এখানে সংখ্যালঘু নস্যশেখ সম্প্রদায়ের ভোটারের সংখ্যা যথেষ্ট বেশি, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। অতীতে এই ভোটব্যাঙ্ককে গুরুত্ব দিয়েই তৃণমূল সংখ্যালঘু নেতাদের প্রার্থী করত। সেই প্রথা এবারে ভেঙে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই আশা করেছিলেন, অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতাদের মধ্যে কেউ একজন টিকিট পাবেন। কিন্তু তা না হওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।এই পরিস্থিতিতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যেই কিছু নতুন দল এবং আঞ্চলিক শক্তি বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, তৃণমূলের এই সিদ্ধান্তে সংখ্যালঘু ভোটের একটি অংশ অন্য দলগুলির দিকে সরে যেতে পারে। অন্যদিকে সিপিএমের তরফ ৮ নম্বর নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে আকিক হাসান মতো মুখ সামনে আসায় সংখ্যালঘু ভোটারদের একাংশের মধ্যে নতুন করে বামেদের প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে বিভিন্ন মহল থেকে। এদিকে, তৃণমূলের ভেতরেও পুরনো ও নতুন নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধ সামনে আসছে। বহুদিন ধরে অভিযোগ ছিল যে, অন্য দল থেকে আসা নেতাদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, আর পুরনো কর্মীরা ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ছেন। এবারের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর সেই অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। দলের বহু অভিজ্ঞ নেতা টিকিট পাননি, অন্যদিকে নতুন মুখদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে সংগঠনের ভেতরে চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।এছাড়া, কোচবিহারে রাজবংশী ভোটও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ভোটব্যাঙ্ককে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের কৌশল সাজাচ্ছে। ফলে একদিকে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের অভাব, অন্যদিকে দলীয় দ্বন্দ্ব ও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ—সব মিলিয়ে জেলার নির্বাচনী চিত্র বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। এখন সকলের নজর রয়েছে অন্যান্য বড় দলের প্রার্থী তালিকার দিকে। সেই তালিকা প্রকাশের পরই কোচবিহারের নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Hot this week

ঈদের খুশির মরশুমে সঙ্গ দিতে নারাজ আবহাওয়া! ঝড় বৃষ্টির পূর্বাভাস আবহাওয়া দপ্তরের

চৈত্র মাস শুরু হতেই পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় বদল এসেছে। বিভিন্ন...

নাম জিজ্ঞেস করেই হামলা! দিল্লিতে মুসলিম ছাত্রদের উপর নৃশংস মারধর অভিযোগ

উত্তর-পূর্ব দিল্লির মুস্তাফাবাদ এলাকায় পরীক্ষার পর বাড়ি ফেরার পথে...

Topics

ঈদের খুশির মরশুমে সঙ্গ দিতে নারাজ আবহাওয়া! ঝড় বৃষ্টির পূর্বাভাস আবহাওয়া দপ্তরের

চৈত্র মাস শুরু হতেই পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় বদল এসেছে। বিভিন্ন...

নাম জিজ্ঞেস করেই হামলা! দিল্লিতে মুসলিম ছাত্রদের উপর নৃশংস মারধর অভিযোগ

উত্তর-পূর্ব দিল্লির মুস্তাফাবাদ এলাকায় পরীক্ষার পর বাড়ি ফেরার পথে...

‘ভোটের আগে বাংলায় অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে’, অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের! নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে চক্রান্তের ইঙ্গিত

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার ফের তীব্র ভাষায় আক্রমণ...

Related Articles

Popular Categories