উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট-২ ব্লকের একটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিবিপুর-বেগমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বড় গোবরা গ্রামে একসঙ্গে ৩৪০ জন মুসলিম ভোটারের নাম বাদ যাওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রাজ্যজুড়ে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম “বিচারাধীন আওতায়” রাখা হয়েছিল। সেই তালিকায় বড় গোবরার এই ৩৪০ জন ভোটারও ছিলেন। স্থানীয়দের আশা ছিল, পরবর্তী সম্পূরক তালিকায় তাঁদের অনেকের নাম ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু সোমবার প্রকাশিত প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় দেখা যায়, ওই ৩৪০ জনের কারও নামই নেই।সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন ওই এলাকার বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) সফিউল আলম নিজেও। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরদার হয়েছে।সফিউল আলম জানিয়েছেন, তিনি নিজে সমস্ত আবেদনকারীর নথি যাচাই করে পোর্টালে জমা দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা থাকলেও অধিকাংশের কাগজপত্র ঠিক ছিল। তবুও একসঙ্গে সবার নাম বাদ যাওয়ায় তিনি বিস্মিত। বিষয়টি তিনি নির্বাচন আধিকারিকদের নজরে আনলেও এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না। তাঁদের দাবি, এই ধরনের ঘটনাই প্রমাণ করে যে, ভোটার তালিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। কমিশনের বক্তব্য, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের দাবি জানাতে পারবেন। এ জন্য রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য মোট ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, যেখানে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা দায়িত্বে রয়েছেন। কিন্তু বহু জায়গায় দেখা যাচ্ছে সেই ট্রাইবুনাল অফিসাররাও নির্ধারিত বুথে উপস্থিত থাকছেন না, ফলে মানুষের মধ্যে উঠবে ক্রমশ বেড়ে চলছে।
একই বুথে ৩৪০ মুসলিম ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ , কমিশনের সাফাই ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক!
Popular Categories


