Saturday, September 5, 2026
30 C
Kolkata

ISRO-এর অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বেসরকারি সংস্থার কাছে কম দামে হস্তান্তর, সংসদীয় কমিটির রিপোর্টে উদ্বেগ

একটি সংসদীয় প্যানেলের সাম্প্রতিক রিপোর্টে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা আইএসআরও এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর তৈরি উচ্চ প্রযুক্তি বেসরকারি কোম্পানির কাছে কম দামে হস্তান্তরের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্যাটেলাইট, রকেট, উন্নত উপাদান এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাব-সিস্টেম সংক্রান্ত প্রযুক্তি অনেক সময় বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটি তাদের পর্যবেক্ষণে জানায়, সরকারি অর্থে তৈরি এসব প্রযুক্তি যখন বেসরকারি খাতে যায়, তখন তা থেকে বড় ধরনের বাণিজ্যিক লাভ অর্জন করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলি। কিন্তু যে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রযুক্তি তৈরি করেছে, তারা সেই তুলনায় খুব সামান্য আর্থিক সুবিধা পায়। ফলে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে বলে মত কমিটির।

ডিপার্টমেন্ট অব স্পেস-এর অধীন আইএসআরও-এর বাণিজ্যিক শাখা নিউস্পেস ইন্ডিয়া লিমিটেড সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে যে তারা বিভিন্ন প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য চুক্তি করেছে। মোট ৬১টি প্রযুক্তি ভারতীয় শিল্পক্ষেত্রে হস্তান্তর করতে ১০০টি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। তবে কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ১০০টির মধ্যে প্রায় ৭০টি প্রযুক্তি ১০ লক্ষ টাকার কম মূল্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক প্রযুক্তি ৫ লক্ষ টাকারও কম দামে দেওয়া হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে মাত্র কয়েক হাজার টাকায়—এমনকি কিছু প্রযুক্তি বিনামূল্যেও হস্তান্তর করা হয়েছে।

কমিটির মতে, এই ধরনের কম দামে প্রযুক্তি হস্তান্তরের ফলে তার প্রকৃত বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। পাশাপাশি, এই সুবিধা শেষ পর্যন্ত নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা যাচাই করার জন্য কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা নেই বলেও তারা উল্লেখ করেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আরও প্রতিযোগিতামূলক এবং বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি গ্রহণ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটি আরও বলেছে, সরকারি অর্থে তৈরি প্রযুক্তির লাইসেন্স ফি নির্ধারণের সময় তার প্রকৃত বাণিজ্যিক মূল্য, বিশেষত্ব এবং সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া উচিত। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তিগুলোর নিয়মিত তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে অডিট হওয়া প্রয়োজন বলেও তারা মত দিয়েছে।

অন্যদিকে, ডিপার্টমেন্ট অব স্পেস জানিয়েছে যে তারা ইতিমধ্যেই বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ জন্য ইন-স্পেস একটি স্থায়ী কমিটি গঠন করেছে, যেখানে ডিওএস , আইএসআরও , এনএসআইএল এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর প্রতিনিধিরা রয়েছেন। এই কমিটি প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে উন্নয়ন খরচ, বাজার সম্ভাবনা, শিল্পের গ্রহণযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ ব্যবহার সম্ভাবনা বিবেচনা করে মূল্য নির্ধারণ করে থাকে বলে জানানো হয়েছে।

Hot this week

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

Related Articles

Popular Categories