মালদার সাম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় ভোটার তালিকা নিয়ে অসন্তোষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম একটি বিবৃতি দিয়ে নির্বাচন ব্যবস্থা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন।
তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগে নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। এর ফলে সাধারণ মানুষকে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকদেরও দায় এড়ানো যায় না। বিষয়টি এখন আদালতের পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
সেলিমের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে রাজ্যে বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। ভারতীয় জনতা পার্টি এবং তৃণমূল কংগ্রেস—উভয় দলকেই তিনি এই বিষয়ে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, অনেক মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ছে, যার ফলে তাঁদের নাগরিকত্ব নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ভূমিকাও এই প্রসঙ্গে প্রশ্নের মুখে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এই বিষয়ে রাজ্য সরকার মানুষের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্রের চাপের সামনে রাজ্য সরকার নতি স্বীকার করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়াও, এই বিষয়ে রাজ্যে কোনও সর্বদলীয় আলোচনা বা প্রস্তাব আনা হয়নি বলেও অভিযোগ তোলেন সেলিম। অন্য রাজ্যে যেখানে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গে কেন তা হয়নি, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, যখন মানুষ নিজেদের অধিকার রক্ষার দাবিতে পথে নামছেন, তখন প্রশাসন তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। মালদা সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রশাসনের কাজের ধরন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাঁর মতে, কোথায় পুলিশ সক্রিয় হবে আর কোথায় নিষ্ক্রিয় থাকবে, তা রাজনৈতিক নির্দেশেই ঠিক হচ্ছে।
সেলিম আরও বলেন, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় প্রশাসনের গাড়ির সঙ্গে দুর্ঘটনার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়েও তদন্ত প্রয়োজন। এই সব ঘটনার দায় শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপরই বর্তায় বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও দাবি করেন, মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য সাধারণ মানুষ এখন আরও সচেতন হচ্ছেন। নানা বাধা সত্ত্বেও তাঁরা গণতান্ত্রিক অধিকার বজায় রাখার লড়াই চালিয়ে যাবেন। রাজনৈতিকভাবে বিভাজনের চেষ্টা করে এই আন্দোলন দমিয়ে রাখা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


