Wednesday, July 22, 2026
26.3 C
Kolkata

ভোটার তালিকা থেকে নাম ডিলিট! স্বেচ্ছামৃত্যু চেয়ে রাষ্ট্রপতি ও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি, শেখ ফরিদুলের

হাওড়ার পাঁচলা এলাকার বাসিন্দা শেখ ফরিদুল ইসলাম সম্প্রতি দেশের রাষ্ট্রপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে একটি দীর্ঘ চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেছেন, সংশোধন প্রক্রিয়ার সময় তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি গভীর মানসিক কষ্টের কথা জানিয়েছেন এবং চিঠিতে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতির আবেদনও করেছেন, যা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে আলোড়ন তুলেছে।

ফরিদুল ইসলামের দাবি, তাঁর পরিবার বহু প্রজন্ম ধরে এই দেশের বাসিন্দা। তিনি নিজেও একজন বৈধ নাগরিক, তবুও তাঁর নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। তাঁর মতে, এটি শুধু ব্যক্তিগত অপমান নয়, বরং নাগরিক অধিকার খর্ব হওয়ার একটি বড় উদাহরণ। তিনি আরও জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ায় তাঁর মতো প্রায় ৯১ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার প্রশ্নের মুখে পড়েছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, সংশোধনের জন্য যেসব নথি জমা দিতে বলা হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের পক্ষে সংগ্রহ করা সহজ নয়। বিশেষ করে দরিদ্র ও গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দাদের কাছে জন্মের শংসাপত্র বা পুরনো সরকারি কাগজপত্র অনেক সময় থাকে না। ফলে প্রকৃত নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র নথির অভাবে বহু মানুষ তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন বলে তাঁর অভিযোগ। এছাড়া তিনি দাবি করেছেন, এই প্রক্রিয়ার প্রভাব সংখ্যালঘু মুসলিম, দলিত ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের উপর বেশি পড়ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখা হচ্ছে না এবং প্রান্তিক মানুষদের নামই বেশি বাদ যাচ্ছে। অতীতে নথি তৈরির সময় হওয়া ভুলের দায় এখন সাধারণ মানুষের উপর চাপানো হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ফরিদুল। তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়ার আইনি ভিত্তি পরিষ্কার নয় এবং নিয়মের ঘনঘন পরিবর্তনের ফলে স্বচ্ছতা নষ্ট হচ্ছে। তিনি মনে করেন, এতে ন্যায্যতার অভাব দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। তাঁর দাবি, পুরো প্রক্রিয়াটি বাতিল করে সকলের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক। চিঠির শেষদিকে তিনি জানিয়েছেন, ভোটাধিকার হারানোর অপমান তিনি সহ্য করতে পারছেন না, তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে তিনি স্বেচ্ছামৃত্যু গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন।

এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে স্বচ্ছতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত জরুরি, নইলে গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হতে পারে।

Hot this week

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

Topics

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

‘ঘোর পাপ হয়েছে’—দু’মাস পর নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে মুখ খুললেন মোদি

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। অনেক...

দশ বছরে সংঘ-ঘনিষ্ঠ ২০ সংস্থাকে ৬৬৮ কোটির বেশি অনুদান! ওএনজিসির সিএসআর তহবিল নিয়ে বিতর্ক

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাকে সরকারি...

Related Articles

Popular Categories