উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরে দলিত কিশোরীকে ধর্ষণের পর খুন করে গঙ্গায় দেহ ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি শাসিত যোগী আদিত্যনাথ সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধীরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উত্তরপ্রদেশ সফরের ঠিক আগে এই নৃশংস ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৪ এপ্রিল নিখোঁজ হয়ে যায় ১৭ বছরের ওই কিশোরী। পরের দিন গাজিপুর জেলার কারান্দা এলাকায় গঙ্গা নদী থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, কিশোরীকে ধর্ষণের পর খুন করে দুষ্কৃতীরা দেহ নদীতে ফেলে দেয়। আরও অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে পরিবারের সদস্যদের প্রথমে বাধার মুখে পড়তে হয়।
যদিও পুলিশের দাবি, ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের হয়েছে এবং এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।
এদিকে শুক্রবার বাংলায় অভয়ার মায়ের সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারে এসে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নারী সংরক্ষণ বিলের সংশোধনী পাশ না হওয়া নিয়েও আবেগঘন মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। সেই আবহেই বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
আগামী ২৯ এপ্রিল হারদোইয়ে গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উত্তরপ্রদেশ সফরের কথা রয়েছে। তার ঠিক আগে গঙ্গা থেকে দলিত কিশোরীর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি সহ একাধিক বিরোধী দল যোগী সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লিখেছেন, “হাতরাস, কাঠুয়া, উন্নাওয়ের পর এবার গাজিপুর— একই প্যাটার্ন দেখা যাচ্ছে। প্রতিবার আক্রান্ত হচ্ছেন দলিত, পিছিয়ে পড়া ও গরিব মানুষ। অপরাধীদের রক্ষা করা হচ্ছে এবং সরকার নীরব।” তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে জবাবদিহি দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, গত ২২ এপ্রিল নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে সমাজবাদী পার্টির প্রতিনিধিদলের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে পাথর ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। এতে এক পুলিশ আধিকারিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর হারদোই সফরের দিনই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা রয়েছে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের। ঘটনার দ্রুত ও কঠোর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনিও। গাজিপুরের এই নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশের নারী নিরাপত্তা, প্রশাসনিক ভূমিকা এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে জাতীয় স্তরে বিতর্ক শুরু হয়েছে।


