ঈদ-উল-আযহা সামনে। আর কয়েকদিন পরেই রাজ্যজুড়ে পালিত হবে কুরবানির উৎসব। তার আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের পোলেরহাট পশু বাজারে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী প্রশাসনের নতুন নির্দেশিকা জারি হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বছরের এই সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি গরু কেনাবেচা হয়। কিন্তু এবার বাজারে সেই চেনা ভিড় নেই বলেই দাবি ব্যবসায়ীদের।
পোলেরহাটের সরকারি পশু হাট বহু বছর ধরে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম বড় গরুর বাজার হিসেবে পরিচিত। ভাঙড়-২ পঞ্চায়েত সমিতির তত্ত্বাবধানে চলা এই হাটে প্রতি বছর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা আসেন। ঈদের আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে এখানে লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেন হয়। শুধু গরু ব্যবসায়ী নন, পরিবহণ কর্মী, শ্রমিক, খাবারের দোকানদার, এমনকি স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ীরাও এই মরশুমের উপর নির্ভর করে থাকেন।
কিন্তু এবারের পরিস্থিতি অন্যরকম। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রশাসনের কড়াকড়ি এবং নতুনভাবে আইনের প্রয়োগের কারণে অনেকেই বাজারে আসতে ভয় পাচ্ছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, কাগজপত্রে সামান্য ভুল থাকলেও আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়তে হতে পারে। সেই আশঙ্কাতেই ক্রেতাদের সংখ্যা কমে গিয়েছে। ফলে বাজারে গরু এলেও বিক্রি আশানুরূপ হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার পোলেরহাট পশু হাটে একটি সভা করে সিপিএম। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের নেতা পলাশ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এই হাটের সঙ্গে বহু মানুষের রুজি-রুটি জড়িয়ে রয়েছে। আচমকা পুরনো আইনকে সামনে এনে মানুষের মনে ভয় তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে রাজনৈতিক তরজার মাঝেই সবচেয়ে বেশি চিন্তায় রয়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে শুধু পশুর ব্যবসাই নয়, গোটা এলাকার অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।


