Saturday, September 5, 2026
30 C
Kolkata

বাল্যবিবাহে দেশের মধ্যে শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ! কেন্দ্রীয় রিপোর্টে বাড়ছে উদ্বেগ

বাল্যবিবাহ রোধে একের পর এক সরকারি কর্মসূচি, সচেতনতা প্রচার এবং প্রশাসনিক উদ্যোগ সত্ত্বেও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এল কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যানে। ২০২৪ সালের স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (এসআরএস)-এর সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।

রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ৬.৩ শতাংশ কিশোরীর বিয়ে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই হয়ে যায়। জাতীয় স্তরে যেখানে বাল্যবিবাহের হার মাত্র ২.১ শতাংশ, সেখানে বাংলার পরিসংখ্যান সেই গড়ের প্রায় তিনগুণ। ফলে বাল্যবিবাহ রোধে রাজ্যের প্রচেষ্টা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এসআরএস-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রতি চারজন নারীর মধ্যে প্রায় তিনজন (৭৩.৫ শতাংশ) ২১ বছর বয়সের পরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সের মধ্যে বিয়ে করেন ২৪.৫ শতাংশ তরুণী। তবে এখনও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নাবালিকাদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা পুরোপুরি নির্মূল হয়নি।

বাল্যবিবাহের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গের পরেই রয়েছে ঝাড়খণ্ড। সেখানে এই হার ৪.৯ শতাংশ। তালিকার তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ছত্তিশগড় (২.৯ শতাংশ), বিহার (২.৮ শতাংশ) এবং অসম (২.৬ শতাংশ)।

গ্রামীণ এলাকাতেও বাল্যবিবাহের হার সবচেয়ে বেশি পশ্চিমবঙ্গেই। রাজ্যের গ্রামীণ অঞ্চলে ৫.৯ শতাংশ কিশোরীর বিয়ে ১৮ বছরের আগেই হয়ে যায়। তুলনায় জাতীয় গ্রামীণ গড় ২.৪ শতাংশ।

তবে আরও উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে শহরাঞ্চলের পরিসংখ্যানে। সারা দেশে শহরাঞ্চলে বসবাসকারী মহিলাদের মধ্যে মাত্র ১.১ শতাংশের বিয়ে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে হয়। অথচ পশ্চিমবঙ্গে শহরাঞ্চলে এই হার ৭.৬ শতাংশ, যা জাতীয় গড়ের বহু গুণ বেশি।

অন্যদিকে বাল্যবিবাহ রোধে সবচেয়ে সফল রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে দিল্লি, যেখানে ২০২৪ সালে বাল্যবিবাহের একটি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়নি। এর পরেই রয়েছে কেরল (০.০৪ শতাংশ), হরিয়ানা (০.০৭ শতাংশ), তামিলনাড়ু (০.০৮ শতাংশ), কর্ণাটক (০.০৮ শতাংশ) এবং হিমাচল প্রদেশ (০.৪ শতাংশ)। এই রাজ্যগুলির পরিসংখ্যান জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেকটাই ভালো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বাল্যবিবাহের উচ্চ হার শুধু সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের ইঙ্গিতই দেয় না, বরং নারীশিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জের বার্তা বহন করে। ফলে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষার প্রসার এবং প্রশাসনিক নজরদারি আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথাই উঠে আসছে এই রিপোর্টে।

Hot this week

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

Related Articles

Popular Categories