Wednesday, July 22, 2026
26.3 C
Kolkata

বাল্যবিবাহে দেশের মধ্যে শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ! কেন্দ্রীয় রিপোর্টে বাড়ছে উদ্বেগ

বাল্যবিবাহ রোধে একের পর এক সরকারি কর্মসূচি, সচেতনতা প্রচার এবং প্রশাসনিক উদ্যোগ সত্ত্বেও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এল কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যানে। ২০২৪ সালের স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (এসআরএস)-এর সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।

রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ৬.৩ শতাংশ কিশোরীর বিয়ে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই হয়ে যায়। জাতীয় স্তরে যেখানে বাল্যবিবাহের হার মাত্র ২.১ শতাংশ, সেখানে বাংলার পরিসংখ্যান সেই গড়ের প্রায় তিনগুণ। ফলে বাল্যবিবাহ রোধে রাজ্যের প্রচেষ্টা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এসআরএস-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রতি চারজন নারীর মধ্যে প্রায় তিনজন (৭৩.৫ শতাংশ) ২১ বছর বয়সের পরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সের মধ্যে বিয়ে করেন ২৪.৫ শতাংশ তরুণী। তবে এখনও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নাবালিকাদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা পুরোপুরি নির্মূল হয়নি।

বাল্যবিবাহের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গের পরেই রয়েছে ঝাড়খণ্ড। সেখানে এই হার ৪.৯ শতাংশ। তালিকার তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ছত্তিশগড় (২.৯ শতাংশ), বিহার (২.৮ শতাংশ) এবং অসম (২.৬ শতাংশ)।

গ্রামীণ এলাকাতেও বাল্যবিবাহের হার সবচেয়ে বেশি পশ্চিমবঙ্গেই। রাজ্যের গ্রামীণ অঞ্চলে ৫.৯ শতাংশ কিশোরীর বিয়ে ১৮ বছরের আগেই হয়ে যায়। তুলনায় জাতীয় গ্রামীণ গড় ২.৪ শতাংশ।

তবে আরও উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে শহরাঞ্চলের পরিসংখ্যানে। সারা দেশে শহরাঞ্চলে বসবাসকারী মহিলাদের মধ্যে মাত্র ১.১ শতাংশের বিয়ে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে হয়। অথচ পশ্চিমবঙ্গে শহরাঞ্চলে এই হার ৭.৬ শতাংশ, যা জাতীয় গড়ের বহু গুণ বেশি।

অন্যদিকে বাল্যবিবাহ রোধে সবচেয়ে সফল রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে দিল্লি, যেখানে ২০২৪ সালে বাল্যবিবাহের একটি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়নি। এর পরেই রয়েছে কেরল (০.০৪ শতাংশ), হরিয়ানা (০.০৭ শতাংশ), তামিলনাড়ু (০.০৮ শতাংশ), কর্ণাটক (০.০৮ শতাংশ) এবং হিমাচল প্রদেশ (০.৪ শতাংশ)। এই রাজ্যগুলির পরিসংখ্যান জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেকটাই ভালো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বাল্যবিবাহের উচ্চ হার শুধু সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের ইঙ্গিতই দেয় না, বরং নারীশিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জের বার্তা বহন করে। ফলে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষার প্রসার এবং প্রশাসনিক নজরদারি আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথাই উঠে আসছে এই রিপোর্টে।

Hot this week

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

Topics

‘ক্ষমা চাও’ – ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেককে সময় বেঁধে দিলেন মদন

২১ জুলাইয়ের সভার দিন ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের...

অফিসের বাথরুমে ঝুলন্ত দেহ, ত্রিপুরার ডিজিপির মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা

ত্রিপুরার পুলিশ মহলে শোকের ছায়া। সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর...

‘ঘোর পাপ হয়েছে’—দু’মাস পর নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে মুখ খুললেন মোদি

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। অনেক...

দশ বছরে সংঘ-ঘনিষ্ঠ ২০ সংস্থাকে ৬৬৮ কোটির বেশি অনুদান! ওএনজিসির সিএসআর তহবিল নিয়ে বিতর্ক

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাকে সরকারি...

Related Articles

Popular Categories