Saturday, September 5, 2026
30 C
Kolkata

যোগী রাজ্যে চলছে উচ্ছেদ অভিযান! উত্তরপ্রদেশে ভাঙা হল মাদ্রাসা ও দোকানপাট

উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় সম্প্রতি প্রশাসনের উদ্যোগে বেশ কয়েকটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আদালতের নির্দেশ এবং রাজস্ব বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মূলত সরকারি জমি দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা নির্মাণ সরিয়ে দিতেই এই অভিযান চালানো হয়।

বালরামপুর জেলার কয়েকটি এলাকায় প্রশাসন বুলডোজার ব্যবহার করে বহু স্থাপনা ভেঙে দেয়। এর মধ্যে কিছু মাদ্রাসা ভবন, অস্থায়ী দোকান এবং অন্যান্য নির্মাণও ছিল। কর্মকর্তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি বেআইনিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। আগে জমি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয় এবং পরে আদালতের নির্দেশ অনুসারে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

অন্যদিকে, বাহরাইচ জেলাতেও একই ধরনের অভিযান চালানো হয়েছে। চিমাউনা বাজার ও পারাগপুর তহসিলের সিংপুর গ্রামে গ্রাম সভার জমিতে তৈরি কয়েকটি স্থাপনা প্রশাসনের নজরে আসে। অভিযোগ ছিল, অনুমতি ছাড়া সেখানে একটি মাদ্রাসা, কয়েকটি দোকান এবং টিনের ছাউনি দেওয়া ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর প্রশাসন প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ওইসব স্থাপনা সরিয়ে দেয়।

অভিযানের সময় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয় যাতে কোনও ধরনের অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, পুরো উচ্ছেদ কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

তহসিল প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, গ্রাম সভার জমি সাধারণ মানুষের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয়। তাই সেখানে অনুমতি ছাড়া কোনও স্থায়ী বা অস্থায়ী নির্মাণ আইনসম্মত নয়। আদালতের নির্দেশ মেনে সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল। ভবিষ্যতে জনকল্যাণমূলক কাজে এই জমি ব্যবহার করা হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জমি দখলের অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি বিচারাধীন হয় এবং পরে আদালত দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ কার্যকর করতেই প্রশাসন এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

প্রশাসন আরও জানিয়েছে, বাহরাইচ জেলায় মোট ৪৯৮টি অনুমোদনহীন মাদ্রাসা চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় এর মধ্যে কয়েকটিকে ইতিমধ্যে বন্ধ বা সিল করে দেওয়া হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ও গ্রাম সভার জমি চিহ্নিত করার কাজ এখনও চলছে। ফলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আলিগড় জেলার তান্নাল এলাকায় একটি পৃথক ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নূরপুর রোডের কাছে একটি কবরস্থানের জমির অংশ ব্যবহার করে রাস্তা তৈরির কাজ করা হয়েছে। এ কাজে একটি জেসিবি মেশিন ব্যবহার করা হয়েছে বলেও স্থানীয়দের দাবি। ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের কথা জানানো হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, উত্তরপ্রদেশে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রশাসনের এই ধারাবাহিক অভিযান এখন রাজ্যের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

Hot this week

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

ভূমধ্যসাগরে মাইক্রোঅ্যালগির দাপট! ইজরায়েলের অধিকাংশ ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ, জলসংকটের আশঙ্কা

ভূমধ্যসাগরে হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা মাইক্রোঅ্যালগির কারণে বড়সড় সমস্যায়...

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ফুকেত-দিল্লি ফ্লাইটের সেই পাইলটকে এবার বরখাস্ত করল এয়ার ইন্ডিয়া!

ফুকেত থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিপদের মুখে পড়া এয়ার...

Topics

অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হয়েও ১ বছরে মিলেছে ১৫০০ কোটি টাকার অনুদান! সবকটির সদর দপ্তর গুজরাটে

গুজরাটে সদর দপ্তর থাকা ৬ নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত রাজনৈতিক...

Related Articles

Popular Categories