বিহারের সিওয়ান জেলার শিবরাজপুর গ্রামে এক মুসলিম যুবককে গণপিটুনির ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে শাহজাদ আলি নামে ওই ব্যক্তিকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে গ্রামের কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মে রাতে ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, মোবাইল ফোন চুরির সন্দেহে একদল গ্রামবাসী শাহজাদ আলিকে তাঁর বাড়ি থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে নিয়ে যায়। এরপর তাঁকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। লাঠি, ঘুষি ও লাথি মেরে দীর্ঘক্ষণ নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ।
মৃতের স্ত্রী মোবিনা খাতুন জানিয়েছেন, হামলাকারীরা শুধু তাঁর স্বামীকে মারধরই করেনি, বাড়িতে থাকা নগদ ৫ হাজার টাকাও নিয়ে যায়। মারধরের জেরে ঘটনাস্থলেই শাহজাদ আলির মৃত্যু হয় বলে পরিবারের দাবি। এই ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন আওধেশ চৌধুরী ওরফে অমিত চৌধুরী, প্রমেন্দ্র মাঝি, ছাত্তু মাঝি, অবধ কিশোর চৌধুরী, গুড্ডু মাঝি, রঞ্জন চৌধুরী এবং মন্টু কুমার। এছাড়াও কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির নামও অভিযোগে রয়েছে।
ঘটনার তদন্তে পুলিশের গাফিলতির অভিযোগও সামনে এসেছে। জানা গেছে, বারহারিয়া থানার ডায়াল-১১২ পরিষেবার দায়িত্বে থাকা সাব-ইন্সপেক্টর সঞ্জীব কুমার ঘটনার খবর পেয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। অভিযোগ, তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছেও শাহজাদকে উদ্ধার করার উদ্যোগ নেননি। পাশাপাশি দুই হোমগার্ড নন্দজি যাদব ও মুক্তিনাথও কোনও সাহায্য করেননি এবং আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেননি।
এই ঘটনার পর সাব-ইন্সপেক্টর সঞ্জীব কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দুই হোমগার্ডের চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। থানার ওসির কাছেও ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
২ জুন নিহতের পরিবার বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের দাবি, দ্রুত সমস্ত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে হবে, নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং মৃতের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দিতে হবে।
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সিওয়ান সাইবার পুলিশ কয়েকটি পোস্ট সরানোর জন্য এক্স কর্তৃপক্ষকে নোটিস পাঠিয়েছে।


