জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের একটি ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, একদল সেনাকর্মী থানায় ঢুকে পুলিশ সদস্যদের মারধর করেন এবং সরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুর চালান। এই ঘটনায় এক কর্নেল, এক মেজর, এক নায়েব সুবেদার-সহ প্রায় ৪০ জন সেনাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কিশতওয়ারের আথৌলী থানাকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনা ঘটে। দায়ের হওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্য এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা অন্য জওয়ানরা থানার ভিতরে জোর করে প্রবেশ করেন। এরপর সেখানে কর্মরত পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বচসা শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে পরিণত হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, থানার ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট এবং ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে মারধর করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ওই সময় ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক একটি সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। থানায় গোলমালের খবর পেয়ে তিনি দ্রুত সেখানে পৌঁছন। কিন্তু থানায় ঢোকার পরই তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এমনকি তাঁর পোশাকও ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
এফআইআরে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা লাঠি, লোহার রড এবং অস্ত্র নিয়ে থানার মূল ফটক ও দেওয়াল টপকে ভিতরে প্রবেশ করেন। এরপর থানার বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালানো হয়। ঘটনায় কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের চোট গুরুতর বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, একটি সেনা-গাড়ি আটক করা নিয়ে এই উত্তেজনার সূত্রপাত। পরিবহণ দফতরের এক আধিকারিক ওই গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সেই ঘটনার জেরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে মনে করা হচ্ছে। ওই আধিকারিক এবং তাঁর নিরাপত্তারক্ষীকেও মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, থানার গেট, সরকারি গাড়ি এবং অন্যান্য সম্পত্তিরও ক্ষতি হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেআইনি জমায়েত, দাঙ্গা, সরকারি কর্মীদের উপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, ভয় দেখানো এবং খুনের চেষ্টার মতো একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। সেনার এক মুখপাত্র বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই ঘটনায় উপত্যকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ সেনা ও পুলিশের মধ্যে এমন প্রকাশ্য সংঘাত অত্যন্ত বিরল ঘটনা বলেই মনে করছেন অনেকেই।


