একসময় মিছিল-মিটিংয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন যাঁরা, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁদের অনেকেই এখন আর তৃণমূল কংগ্রেসে নেই। দলের কঠিন সময়ে অবশ্য কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্রের মতো কয়েকজন নেতাকে প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই দেখা গিয়েছে। সেই কারণেই কুণাল ঘোষের সাম্প্রতিক একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
নিজের দীর্ঘ পোস্টে কুণাল লেখেন, “তৃণমূল ভোটে হারায় ভালোই হয়েছে।” এই মন্তব্য সামনে আসতেই প্রশ্ন ওঠে, তবে কি তিনিও দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন? যদিও পোস্টের পরবর্তী অংশে কুণাল স্পষ্ট করেন, তাঁর বক্তব্য দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং দলের ভিতরে থাকা সুযোগসন্ধানী ও ‘বিশ্বাসঘাতক’দের বিরুদ্ধে।
রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কুণাল ঘোষ একাধিকবার জানিয়েছেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের উপর আস্থা রাখেন। একইসঙ্গে দলের ভুলত্রুটি নিয়েও তিনি প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দলের ভিতরে থেকেই সংশোধনের দাবি তুলবেন, কিন্তু ভুল দেখেও নীরব থাকবেন না। দল ছেড়ে যাওয়া একাধিক নেতা-বিধায়ক ও সাংসদদেরও তিনি অতীতে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আক্রমণ করেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কুণাল লেখেন, “৪ মে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার পরাজিত হওয়ার পর খারাপ লেগেছিল। নিজের দল হারলে যেমন লাগে। বেলেঘাটায় আমার জয়টাও তেমন আনন্দ দিতে পারেনি। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে যা হয়েছে, ভালো হয়েছে। যদি তৃণমূল জিতত, এই বিশ্বাসঘাতকরাই স্তাবক হয়ে দিদিকে ঘিরে রাখত।”
তাঁর অভিযোগ, দলের জয়ে সুযোগসন্ধানী, অপরাধমূলক মানসিকতার কিছু ব্যক্তি এবং ব্যক্তিস্বার্থে রাজনীতি করা একাংশ আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠত। প্রকৃত কর্মী, সংগঠক ও শুভানুধ্যায়ীরা উপেক্ষিতই থেকে যেতেন। এমনকি কিছু নেতা-কর্মীর ঔদ্ধত্যও আরও বাড়ত বলে দাবি করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে কুণাল ঘোষ বলেন, বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতি আসলে দলকে আত্মসমালোচনার সুযোগ করে দিয়েছে। তাঁর কথায়, “ভোটের ফল হয়তো দলের ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু আবর্জনা সাফ করে মানুষ চিনতে সাহায্য করেছে। মাথার উপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সর্বত্র দলকে প্রকৃত ভালোবাসা কর্মীরা। তৃণমূল কংগ্রেস লড়াই চালাবে। মেদ ঝরেছে, মেদ ঝরছে। আপাতদৃষ্টিতে খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে গেলেও সময়ের পরীক্ষা দলকে আগামীর জন্য আরও শক্তিশালী করছে।”
কুণাল ঘোষের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি দলের পরাজয়কে সমর্থন করেননি; বরং সেই পরাজয়ের ফলে দলের ভিতরে থাকা সুযোগসন্ধানী ও ‘বিশ্বাসঘাতক’দের চিহ্নিত করা সহজ হয়েছে বলেই দাবি করেছেন।


