পড়ুয়াদের রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঠেকাতে জারি করা নির্দেশিকা নিয়ে তীব্র বিতর্কের মধ্যেই সেটি প্রত্যাহার করল তামিলনাড়ুর টিভিকে সরকার। গত ১৪ অগস্ট কলেজশিক্ষা দফতরের তরফে ওই নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখানে স্কুল ও কলেজের পড়ুয়াদের বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলন থেকে দূরে রাখার জন্য প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় পদক্ষেপ করার কথা বলা হয়।
নির্দেশিকাটি সামনে আসার পরই তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতৃত্ব অভিযোগ করে, ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদ ও মতপ্রকাশের অধিকার থেকে দূরে রাখার এই উদ্যোগ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে মানানসই নয়। বাম দলগুলিও সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ছাত্রবিক্ষোভে পড়ুয়াদের অংশগ্রহণ কমাতে স্কুলশিক্ষা দফতর, উচ্চশিক্ষা দফতর, পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনও স্কুল বা কলেজ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তার রিপোর্টও ২০ অগস্টের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্দেশিকা ঘিরে রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় বুধবার সেটি বাতিল করে তামিলনাড়ু সরকার।
ঘটনাটি রাজনৈতিক দিক থেকেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা সি জোসেফ বিজয় বর্তমানে বাম দল ও কংগ্রেসের সমর্থনে সরকার চালাচ্ছেন। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় বিজয়ের টিভিকে পেয়েছিল ১০৭টি আসন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন। কংগ্রেসের পাঁচ জন, ভিসিকে-র দুই জন, সিপিএমের দুই জন এবং সিপিআইয়ের দুই বিধায়ক টিভিকে-কে সমর্থন করেন।
তাই বাম দলগুলির সমর্থনে ক্ষমতায় থাকা সরকারের তরফে বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনে পড়ুয়াদের যোগ দিতে বাধা দেওয়ার নির্দেশিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। যদিও বিতর্কের সময় বিজয় সরকারের পাশে দাঁড়ায় বিজেপি। বিজেপি নেতা বিনোদ পি সেলভম নির্দেশিকাকে সমর্থন করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সরব হন।
তামিলনাড়ুর সিজেপি অবশ্য অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বাধীন মূল সিজেপির থেকে আলাদা সংগঠন। আইনজীবী সি ব্রহ্ম বালসুব্রহ্মণ্যমের নেতৃত্বে সংগঠনটি রাজ্যস্তরে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশনের কাছেও আবেদন করেছে।
এদিকে, একই দিনে বিধায়কদের জন্য নতুন সুবিধার কথাও ঘোষণা করেছেন বিজয়। নিজের বিধানসভা এলাকায় যাতায়াতের জন্য প্রত্যেক বিধায়ককে নতুন গাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। চালকের বেতন ও অন্যান্য খরচ বাবদ মাসে ৭৫ হাজার টাকা এবং একজন সহকারী রাখার জন্য আরও ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।


