কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস অঠওয়ালের রাজনৈতিক প্রস্তাবকে সরাসরি গ্রহণ করলেন না ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রধান অভিজিৎ দীপকে। বরং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা মন্তব্য করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকেই নিশানা করলেন তিনি। অঠওয়ালে সম্প্রতি দীপকেকে তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এ)-তে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি এনডিএ-তে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে অঠওয়ালের উদ্দেশে দীপকে লেখেন, “এক মাস আগেও তো আপনার চোখে আমি দেশদ্রোহী ছিলাম!” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। দীপকের বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে মূলত প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যাঁকে কিছুদিন আগেও দেশদ্রোহী বলে আক্রমণ করা হয়েছিল, তাঁকেই কী ভাবে এবার শাসক জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সোমবার অঠওয়ালে দীপকের প্রশংসা করে তাঁকে নিজের দলে আসার পরামর্শ দেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, দীপকে অম্বেডকরপন্থী এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সক্রিয় মুখ। তাই তাঁর রিপাবলিকান পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এ)-তে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে তাঁকে সরাসরি বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে যোগ দেওয়ার কথাও বলেন অঠওয়ালে।
তবে অঠওয়ালের সেই আহ্বারে সাড়া দেওয়ার কোনও ইঙ্গিত দেননি দীপকে। বরং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আগেই স্পষ্ট করেছেন সিজেপি প্রধান। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে তিনি কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে আগ্রহী নন। নির্বাচনী রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাওয়াকেই এর অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
দীপকের মতে, দেশের সমস্যার সমাধানের জন্য শুধুমাত্র একটি নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। তার বদলে মানুষের মধ্যে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক ও নাগরিক ইস্যুতে আন্দোলন করাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
অঠওয়ালের প্রস্তাব এবং তার পরেই দীপকের পাল্টা মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই নেতার বক্তব্যের মধ্যে থাকা পার্থক্য নজর কেড়েছে। একদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তাঁকে শাসক জোটে আসার আহ্বান জানিয়েছেন, অন্যদিকে দীপকে জানিয়েছেন, নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে থেকেই মানুষের আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান তিনি।


