মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে নিজেদের সামরিক অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে মার্কিন সেনাবাহিনী। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির একটি অংশ ভবিষ্যতে ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমি এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুর দিকে সংঘাতের সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় একাধিক মার্কিন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপরই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম তাদের সামরিক সম্পদ ও ঘাঁটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে মূল্যায়ন শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, বাহরিন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে অবস্থিত একাধিক মার্কিন স্থাপনা হামলার মুখে পড়ে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, অন্তত ২০টি সামরিক স্থানে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতরও উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যায়।
উপগ্রহচিত্র এবং বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি ঘাঁটির হ্যাঙ্গার, সেনা আবাসন, রাডার ব্যবস্থা, যোগাযোগ পরিকাঠামো এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রথমে প্রকাশিত তথ্যের তুলনায় অনেক বেশি বলে দাবি করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ এমন একটি স্থান খুঁজছে, যা সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি থেকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। সেই কারণেই নেগেভ মরুভূমিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ, ওই এলাকা ইরানের অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সরাসরি পাল্লার বাইরে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি সেখানে ইসরায়েলের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, যা সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
সূত্রের খবর, দুটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রথমটি হল নেগেভে নতুন করে বড় আকারের একটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করা, যেখানে মার্কিন স্থল ও বিমান বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট মোতায়েন করা যাবে। অন্য পরিকল্পনায় রয়েছে, ওই অঞ্চলের বিদ্যমান একটি ইসরায়েলি বিমানঘাঁটির পরিসর বাড়িয়ে সেখানে মার্কিন বাহিনীর জন্য আলাদা পরিকাঠামো গড়ে তোলা।
নেগেভ এলাকায় আগে থেকেই মার্কিন সেনাবাহিনীর কিছু সীমিত সামরিক অবকাঠামো রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে সেখানে উপস্থিতি আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। মার্কিন সামরিক মহলের একাংশের মতে, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত প্রযুক্তি এবং কৌশলগত অবস্থানের কারণে নেগেভ ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।


