কামারহাটি পুরসভার নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। সম্প্রতি চেয়ারম্যান পদ থেকে গোপাল সাহার সরে দাঁড়ানোর পর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নির্দল কাউন্সিলর সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়। তাঁর নির্বাচনের পর থেকেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়, কারণ তিনি বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের আত্মীয়।
কামারহাটি পুরসভায় মোট ৩৫টি ওয়ার্ড রয়েছে। গত পুর নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বোর্ড গঠন করেছিল। চেয়ারম্যান পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, এই বিষয়ে দলের কাছে আগে কোনও তথ্য ছিল না। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির নাম ব্যবহার করে বা দলের সঙ্গে সম্পর্ক দেখিয়ে কেউ কোনও পদে বসার চেষ্টা করলে তা দল মেনে নেবে না। তিনি আরও বলেন, কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দলের নিজস্ব নিয়ম ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়া রয়েছে এবং তা উপেক্ষা করা উচিত নয়।
শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন নতুন চেয়ারম্যান সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, পুরো বিষয়টি নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, কামারহাটি পুরসভার বর্তমান বোর্ড বিজেপির নিয়ন্ত্রণে নয় এবং তাঁর চেয়ারম্যান হওয়া কোনও রাজনৈতিক সমঝোতার ফল নয়। বরং পুরসভার নিয়ম মেনেই এই নির্বাচন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, পুর আইনের সমস্ত বিধি মেনে এবং অধিকাংশ কাউন্সিলরের সমর্থন নিয়েই তাঁকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রশাসনিক অনুমোদনের পরই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ফলে তাঁর নির্বাচনকে বেআইনি বলার কোনও সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে তাঁর সঙ্গে লকেট চট্টোপাধ্যায়ের পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচনের সঙ্গে লকেটের কোনও ভূমিকা নেই। চেয়ারম্যান নির্বাচনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে পুরসভার অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়েছে।
অন্যদিকে লকেট চট্টোপাধ্যায়ও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি জানান, সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় তাঁর আত্মীয় হলেও পুরসভার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তাঁর ধারণা। কামারহাটি পুরসভার নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।


