পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ফের উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। হরমুজ় প্রণালীকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে আমেরিকার সেনাবাহিনী ইরানের একাধিক এলাকায় হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর আব্বাস এবং সিরিক এলাকার কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে কোনারাক ও চাবাহার এলাকাতেও বিস্ফোরণের খবর সামনে আসে। পরিস্থিতির জেরে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলার পর উপকূলবর্তী অঞ্চলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। আকাশপথে সম্ভাব্য আরও আক্রমণ ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সেনা ও বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে হরমুজ় প্রণালীতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। আমেরিকার অভিযোগ, এই হামলার পিছনে ইরানের ভূমিকা রয়েছে। আক্রান্ত জাহাজগুলির মধ্যে একটি ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল বলেও জানা গেছে। যদিও ইরান সরাসরি এই অভিযোগ মেনে নেয়নি।
এই ঘটনার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই অবস্থান থেকেই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি ওয়াশিংটনের।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নেবে না। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকার লক্ষ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা।
এদিকে ইরানের নেতৃত্বও নিজেদের অবস্থানে অনড়। দেশটির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, কোনও চাপের কাছে তারা নতি স্বীকার করবে না। পাশাপাশি তারা আলোচনার পথও খোলা রাখতে চাইছে। সেই কারণে কাতারের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ় প্রণালী। ফলে এই অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির উপর বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি।


