ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই এবং তাঁর পরিবারের চার সদস্যের শেষকৃত্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাঁদের মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। সেই ঘটনার পর অনুষ্ঠিত জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষ অংশ নেন। ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহর থেকে মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন।জানাজার অনুষ্ঠানে বিপুল জনসমাগম দেখা যায়। রাস্তাঘাটে শোকাহত মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই জাতীয় পতাকা ও ধর্মীয় প্রতীক হাতে নিয়ে শোকমিছিলে অংশ নেন। ইরানের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে শেষকৃত্যের সময় উভয় পক্ষই সংযম বজায় রাখবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জানাজার অনুষ্ঠান চলাকালীন কোনও পক্ষই হামলা চালাবে না। তিনি আরও বলেন, শেষকৃত্যের পর ইরানের সঙ্গে আলোচনা প্রক্রিয়া আবার শুরু হবে। ফলে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ চালু রাখার ইঙ্গিত মিলেছে।অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আবহ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। ইসরায়েলি বাহিনী লেবানন ও গাজায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। দক্ষিণ লেবাননে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি গাজা সিটি এবং জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে পৃথক হামলায় দুই ফিলিস্তিনির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।এই পরিস্থিতিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও মুখ খুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতার পরিবেশকে দুর্বল করে দিচ্ছে ইসরায়েলের পদক্ষেপ। তাঁর মতে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব পক্ষেরই সংযম দেখানো প্রয়োজন।এরদোয়ান আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যে কোনও ইতিবাচক উদ্যোগে তুরস্ক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। বর্তমানে গোটা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বজায় থাকলেও আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে এবং সংঘাত কমানোর পথ খুঁজছে।
Popular Categories


