রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাকে সরকারি তেল সংস্থা ওএনজিসি (ONGC) গত এক দশকে বিপুল পরিমাণ কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) তহবিল দিয়েছে বলে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সাল থেকে ২০২৫ সালের প্রথম দিক পর্যন্ত আরএসএস-ঘনিষ্ঠ ২০টি সংস্থাকে মোট প্রায় ৬৭১ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ মিনিট (TNM)। সেখানে বলা হয়েছে, ওএনজিসি এই অর্থ তাদের সিএসআর প্রকল্পের আওতায় ব্যয় করেছে। সংস্থার বার্ষিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশজুড়ে ২ হাজারেরও বেশি প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানের জন্য মোট ৪,৫৩১ কোটি টাকার সিএসআর অনুদান দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ১৪.৭ শতাংশ অর্থ গিয়েছে আরএসএস-সম্পর্কিত বলে চিহ্নিত সংস্থাগুলির কাছে।
এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে অসমের শিবসাগর জেলার স্বর্গদেউ সিউ-কা-ফা হাসপাতাল। ৩০০ শয্যার এই বহুমুখী হাসপাতালের জন্য ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওএনজিসি ৪৩৪ কোটিরও বেশি টাকা দিয়েছে। হাসপাতালটি পরিচালনা করে ওএনজিসি এবং মহারাষ্ট্রের ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর বৈদ্যকীয় প্রতিষ্ঠান নামে একটি ট্রাস্ট। এই ট্রাস্টকে আরএসএসের আদর্শে পরিচালিত সংস্থা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন নথিতে।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নাগপুরের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট। এই প্রকল্পের জন্য ড. আবাজি থাট্টে সেবা অওর অনুসন্ধান সংস্থাকে ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। সংস্থার নেতৃত্বে থাকা কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে আরএসএস ও তার সহযোগী সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়াও বেঙ্গালুরুর এস-ব্যাসা বিশ্ববিদ্যালয়, সেবা ভারতীর বিভিন্ন শাখা, ভারত বিকাশ পরিষদ, একল বিদ্যালয় ফাউন্ডেশন, বিবেকানন্দ কেন্দ্র, বিদ্যা ভারতীর সঙ্গে যুক্ত একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সমাজসেবামূলক সংগঠনও ওএনজিসির অনুদান পেয়েছে। এই অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে হাসপাতাল নির্মাণ, ছাত্রাবাস তৈরি, স্কুল পরিচালনা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, যোগ কেন্দ্র গঠন এবং সমাজকল্যাণমূলক নানা কাজে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ওএনজিসির পরিচালনা পর্ষদ এবং সিএসআর কমিটিতে অতীতে বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা কয়েকজন ব্যক্তির উপস্থিতি ছিল। তাঁদের মধ্যে বিজেপি নেতা সম্বিত পাত্র, রীনা জেটলি এবং শ্যাম চাঁদ ঘোষের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে কোথাও এই অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে কোনও বেআইনি কাজের অভিযোগ সরাসরি তোলা হয়নি। বরং প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি সংস্থার সিএসআর তহবিল কোন ভিত্তিতে বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে বণ্টন করা হয় এবং সেই প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ।
ওএনজিসির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে একাধিক প্রশ্ন পাঠানো হলেও সংস্থার তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দ্য নিউজ মিনিট। অন্যদিকে, আরএসএস বহুদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে তারা মূলত স্বেচ্ছা অনুদানের মাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সরকারি অর্থের ব্যবহার, সিএসআর তহবিলের স্বচ্ছতা এবং বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক নিয়ে আগামী দিনে আরও আলোচনা ও প্রশ্ন উঠতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।


