দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি না কাটলেও বৃহস্পতিবার সকালে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল। তবে সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে আবারও মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রশাসন রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। এর ফলে অফিসযাত্রী ও সাধারণ মানুষকে বেশ সমস্যার মুখে পড়তে হয়।
বুধবার রাতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর গোটা এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যন্তর মন্তর, ইন্ডিয়া গেট-সহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড বসিয়ে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে, যাতে নতুন করে কোনও অশান্তি না ছড়ায়।
বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দীপ জানান, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে এই কর্মসূচি চলছে এবং এখনই তা বন্ধ করার কোনও পরিকল্পনা নেই।
একই সঙ্গে তিনি শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অভিজিৎ বলেন, আন্দোলনের লক্ষ্য পূরণ হলেও কোনওভাবেই একজনের জীবনের ঝুঁকি কাম্য নয়। তাই তিনি ওয়াংচুককে অনশন তুলে নেওয়ার আবেদন জানান এবং বলেন, দেশের জন্য তাঁর সুস্থ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিক্ষোভের মাঝেই সিজেপি-র পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বাইরের কিছু লোককে এনে আন্দোলনের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্তি সৃষ্টি করে আন্দোলনের বদনাম করার চেষ্টা চলছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
বুধবার সন্ধ্যার পর যন্তর মন্তর এলাকায় হঠাৎ মানুষের সংখ্যা বেড়ে যায়। এরপর কয়েক দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। কোথাও পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে, আবার নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগও ওঠে। পুলিশের দাবি, কয়েকজন দুষ্কৃতী নিরাপত্তারক্ষীদের লাঠি কেড়ে নিয়ে হামলার চেষ্টা করে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
উল্লেখ্য, নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানীতে আন্দোলন চলছে। এই ইস্যুতে বিরোধী দলগুলিও সরব হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক বিরোধী নেতা আটক হন। পরে রাহুল জানান, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, আন্দোলনকারীদের উপর হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমাপ্রার্থনার দাবিতে তাঁরা অনড় থাকবেন।
অন্যদিকে কেন্দ্রের বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে সরকার প্রস্তুত। তবে এই ইস্যুকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার আবেদন জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নড্ডা। ফলে আন্দোলন, রাজনৈতিক চাপ এবং সরকারের অবস্থান—সব মিলিয়ে রাজধানীর পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে গোটা দেশের।


