বারুইপুরের সূর্যপুরে এনকাউন্টারে অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তকারী সংস্থা পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে নতুন মামলা দায়ের হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী সুজাত ভদ্র এই জনস্বার্থ মামলাটি করেছেন।
বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে মারা যান। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় তিনি এক পুলিশকর্মীর কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। আত্মরক্ষার জন্যই গুলি চালানো হয়। বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত করছে সিআইডি।
তবে মামলাকারীর প্রশ্ন, যে পুলিশের গুলিতে অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে, সেই পুলিশ ব্যবস্থার অধীনে তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ হবে? তাঁর দাবি, ঘটনার আসল সত্য সামনে আনতে তদন্ত অন্য কোনও সংস্থার হাতে দেওয়া উচিত।
এই ঘটনায় এর আগে হাই কোর্টে একাধিক জনস্বার্থ মামলা হয়েছে। নতুন মামলাটি নিয়ে মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে বিষয়টির শুনানি চলছে। আদালত ইতিমধ্যেই রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে। আগামী ১৮ অগস্ট পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।
অভিযোগ উঠেছে, প্রভাসকে গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে নিয়ম মানা হয়নি। এমনকি কোনও ভিডিও রেকর্ডিংও করা হয়নি বলে দাবি। আদালত এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে বারুইপুরের পুলিশ সুপারকে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে।
রাজ্যের আইনজীবীর দাবি, জেরায় প্রভাস অপরাধের কথা স্বীকার করেছিলেন বলেই তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ঘটনায় বাকি অভিযুক্তরা এখনও জেল হেফাজতে রয়েছেন।

