সোমবার উপনির্বাচনের ফল ঘিরে দেশের রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাথমিক গণনার ছবিতে বিহার ও মধ্যপ্রদেশে বিজেপির জন্য স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি দেখা যায়নি। বিশেষ করে বিহারের বাঁকীপুর কেন্দ্রের ফলাফল সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে। সেখানে ‘জন সুরাজ পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে মধ্যপ্রদেশের দতিয়া কেন্দ্রে কংগ্রেসও ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে গুজরাতের মঞ্জলপুর আসনে বিজেপি তাদের দখল বজায় রাখার পথে।বিহারের বাঁকীপুর দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। গত তিন দশক ধরে এই আসনটি বিজেপির দখলেই ছিল। শেষ বিধানসভা নির্বাচনে এখান থেকে জয়ী হয়েছিলেন দলের বর্তমান সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। পরে তিনি রাজ্যসভায় যাওয়ায় আসনটি শূন্য হয় এবং উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।এই উপনির্বাচনেই প্রথমবার সরাসরি ভোটের লড়াইয়ে নামেন প্রশান্ত কিশোর। রাজনৈতিক কৌশলবিদ হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করলেও এতদিন তিনি নিজে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। নিজের দল গঠনের পরও নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় থাকলেও প্রার্থী না হওয়ায় দলের ভিতরেও নানা প্রশ্ন উঠেছিল। সেই পরিস্থিতিতে বাঁকীপুর থেকেই ভোটে নামার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।বিকেল পর্যন্ত গণনার হিসেবে প্রশান্ত কিশোর প্রায় ১৫ হাজার ৮০০-র বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তিনি মোট ভোটের প্রায় অর্ধেকই নিজের ঝুলিতে তুলেছেন। শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্য নিয়েই তিনি প্রচার চালিয়েছিলেন। সেই কৌশল ফল দিতে শুরু করেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।যদি শেষ পর্যন্ত এই ফল বজায় থাকে, তবে বিহারের রাজনীতিতে ‘জন সুরাজ পার্টি’র অবস্থান অনেকটাই শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি টানা ৩০ বছর ধরে ধরে রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন হারালে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের উপরও চাপ বাড়তে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।বাঁকীপুরে প্রশান্ত কিশোরের সমর্থকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা রং খেলায় ও স্লোগানে বিজয়ের আশা প্রকাশ করছেন।অন্যদিকে মধ্যপ্রদেশের দতিয়া কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী ঘনশ্যাম সিংহ প্রথম ১০ দফা গণনা শেষে প্রায় ১০ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। এখনও কয়েক দফা গণনা বাকি থাকলেও কংগ্রেস শিবিরে আশাবাদের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যু, বিশেষ করে NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে তরুণদের আন্দোলনের প্রভাব কিছুটা হলেও এই নির্বাচনে পড়ে থাকতে পারে।
Popular Categories


