বালি বোঝাই লরি থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগে এক বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম রাকেশ মাজি। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাঁকে বালি পরিবহণকারী লরির চালকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়। ভিডিওটি সামনে আসার পরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি খতিয়ে দেখা হয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরপর রাকেশ মাজিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীরা এখন জানতে চাইছেন, এইভাবে কত দিন ধরে টাকা তোলা চলছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না।
ভাইরাল ভিডিওতে রাকেশ মাজিকে বলতে শোনা যায়, আগে প্রতি লরি থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হত। তবে বর্তমানে অত টাকা নেওয়া হয় না বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এখন প্রতি গাড়ি থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হয় এবং এরপর সেই লরিগুলিকে যেতে দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, জোর করে টাকা আদায় করা এখন আর করা হয় না। কেউ আপত্তি করলে থানায় যোগাযোগ করার কথাও ভিডিওতে বলতে শোনা যায়।
ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়েছে, আগে ওভারলোড বালি বহনকারী লরির সংখ্যা বেশি ছিল। এখন সেই পরিস্থিতি বদলেছে বলেই তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, বালির দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো চাপ সৃষ্টি করে টাকা তোলা সম্ভব নয়। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধীরা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপিকে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে। তাদের দাবি, ভিডিওতে শোনা কথার ভিত্তিতেই স্পষ্ট যে দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের অর্থ আদায়ের ঘটনা চলছিল। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে বিজেপির তরফে এখনও কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে। ভিডিওটির সত্যতা, ঘটনার সময়, স্থান এবং এর সঙ্গে অন্য কারও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বালি পরিবহণকে কেন্দ্র করে টাকা আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়। তবে ভাইরাল ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। এখন তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর রয়েছে সকলের।


