ভারতের কুস্তি সংস্থার প্রাক্তন সভাপতি এবং বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ ব্রিজভূষণ শরণ সিংকে যৌন হেনস্থার মামলায় আদালত সম্প্রতি খালাস দেওয়ার পর উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে তাঁকে ঘিরে নতুন করে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই রায়ের পর বিজেপির সক্রিয় রাজনীতিতে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়েছে।
আদালতের রায় ঘোষণার পর থেকেই ব্রিজভূষণের সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের পরিবেশ দেখা যায়। নয়ডায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তাঁর এবং তাঁর দুই ছেলে—কৈসরগঞ্জের সাংসদ করণ ভূষণ সিং ও গোন্ডার বিধায়ক প্রতীক ভূষণ সিংয়ের ছবি-সহ পোস্টার টাঙানো হয়। সেখানে লেখা ছিল, “সত্যের জয় হয়েছে”। পরে দিল্লি থেকে বৃন্দাবন যাওয়ার পথে তাঁর গাড়ির বহরেও “সত্যমেব জয়তে” লেখা স্টিকার দেখা যায়। আগামী ৭ আগস্ট গোন্ডা জেলার নন্দিনী নগরে একটি বড় সমাবেশেরও পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখানে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমর্থক এবং বিজেপির স্থানীয় নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা।
বিজেপির এক প্রবীণ নেতা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যৌন হেনস্থার অভিযোগের কারণে ব্রিজভূষণকে প্রার্থী করা হয়নি। তাঁর পরিবর্তে দল তাঁর ছেলে করণ ভূষণ সিংকে টিকিট দেয়। আদালতের রায়ে খালাস পাওয়ার পর ভবিষ্যতে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি আবারও দলের প্রার্থী হতে পারেন। পাশাপাশি ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও তাঁর মতামত গুরুত্ব পেতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
২০২৩ সালে দেশের ছয় জন মহিলা কুস্তিগির ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনেন। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করে অলিম্পিক ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ পদকজয়ী কুস্তিগিরদের নেতৃত্বে দিল্লিতে দীর্ঘ আন্দোলন হয়। তাঁরা ব্রিজভূষণের গ্রেফতার এবং কুস্তি সংস্থার সভাপতির পদ থেকে তাঁকে সরানোর দাবি তোলেন। বিষয়টি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের পর দিল্লি পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে এবং চার্জশিট জমা দেয়।
ব্রিজভূষণের ঘনিষ্ঠদের দাবি, তিনি ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করার ব্যাপারে আগ্রহী। যদিও শেষ সিদ্ধান্ত নেবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তাঁদের বক্তব্য, আদালতের রায়ের পর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের কৈসরগঞ্জ, শ্রাবস্তী, বস্তি ও অযোধ্যা-সহ একাধিক এলাকায় এখনও ব্রিজভূষণের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে বলে দলের অনেক নেতাই মনে করেন। তাই তাঁকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা কঠিন বলেও মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
যদিও যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠার পর বিজেপি দীর্ঘ সময় তাঁকে সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে দূরে রেখেছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারেও তিনি মূলত নিজের ছেলের জন্যই প্রচার করেছিলেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বও সেই সময় তাঁর সঙ্গে প্রকাশ্যে খুব বেশি দেখা যায়নি।
এখন আদালতের রায়ের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। আগামী কয়েক মাসে বিজেপি নেতৃত্ব ব্রিজভূষণকে কী ভূমিকা দেয়, সেদিকেই নজর থাকবে দেশের রাজনৈতিক মহলের।


