প্রবল বৃষ্টিতে জল জমে থাকা রাস্তার নীচে খোলা নর্দমা বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠল দিল্লিতে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর দুই জায়গায় এমন দুটি ঘটনা সামনে এসেছে, যার একটি মৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি করেছে, আর অন্যটিতে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায় তিন স্কুলপড়ুয়া।
পুলিশ ও দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির বিজওয়াসন এলাকায় জলমগ্ন একটি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এক ব্যক্তি হঠাৎ খোলা নর্দমায় পড়ে যান। স্থানীয় মানুষ বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত উদ্ধারকারী দলকে খবর দেন। খবর পেয়ে দমকলের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-র সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন।
দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালিয়েও ওই ব্যক্তির কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের আশঙ্কা, তিনি নর্দমার জলের স্রোতে ভেসে গিয়েছেন। জানা গিয়েছে, ওই নর্দমাটি পরে একটি বড় ড্রেনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত একটি খালে গিয়ে মিশেছে। ফলে উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। সন্ধ্যার পর আপাতত অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে। শুক্রবার সকালে আবারও নতুন করে তল্লাশি শুরু হবে বলে জানিয়েছে দমকল কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, উত্তর দিল্লির জগতপুর গ্রামেও একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটে। স্কুল ছুটির পর তিন পড়ুয়া বাড়ি ফিরছিল। রাস্তায় বৃষ্টির জল জমে থাকায় কোথায় রাস্তা আর কোথায় খোলা নর্দমা, তা বোঝার উপায় ছিল না। হাঁটতে হাঁটতেই তারা আচমকা নর্দমায় পড়ে যায়।
শিশুদের চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ ছুটে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় অল্প সময়ের মধ্যেই তিনজনকেই নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তাঁদের কারও গুরুতর চোট লাগেনি বলে জানা গিয়েছে। সময়মতো সাহায্য না পেলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এই দুই ঘটনার পর ফের প্রশ্ন উঠেছে বর্ষার সময় শহরের নিকাশি ব্যবস্থা ও খোলা নর্দমার নিরাপত্তা নিয়ে। বহু জায়গায় জল জমে যাওয়ায় নর্দমার মুখ সম্পূর্ণ ঢেকে যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারছেন না কোথায় বিপদ লুকিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে পথচারী, শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৃষ্টির সময়ে বহু রাস্তায় একই সমস্যা দেখা দিলেও প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তাঁদের দাবি, খোলা নর্দমাগুলি দ্রুত ঢেকে দেওয়া, বিপজ্জনক জায়গায় ব্যারিকেড বসানো এবং জল নামানোর ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।


